বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন ৭৯ বছর বয়সী ফিরোজা বেগম। বড় মেয়ে শিরি বেগমের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে শুক্রবার সকালে মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকায় মোকামতলা–জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়ক পার হওয়ার সময় জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীর একটি গাড়ি তাঁকে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের ধানখেতে নেমে যায়।

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ফিরোজা বেগমকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

ফিরোজা বেগম শিবগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর স্বামীর নাম মৃত নিজামুদ্দীন সরকার। তাঁদের দুই ছেলে ও পাঁচ মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে ফেরদৌস হোসেন আগেই মারা গেছেন। ছোট ছেলে সেলিম সরকার কৃষিকাজ করেন এবং পাঁচ মেয়েরই বিয়ে হয়ে গেছে। স্বামীর মৃত্যুর পর ফিরোজা তাঁর দুই পুত্রবধূ রিপা বেগম ও রেশমা বেগমের সঙ্গে থাকতেন।

ফিরোজার স্বজন জাকির হাসান জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর অনেক কষ্টে সংসার চালাতেন ফিরোজা। তিনি দুই বিঘা জমি চাষাবাদ করে জীবন নির্বাহ করতেন। এদিন সকালে অটোরিকশা ধরার জন্য মহাসড়ক পার হতে গিয়েই তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন। স্বজনরা এটিকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখছেন এবং এ নিয়ে তাঁদের কোনো অভিযোগ নেই।

ঘটনার পর ফিরোজার পুত্রবধূ রেশমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন শাশুড়ি। কিন্তু তিনি আর জীবিত ফিরলেন না, ফিরলেন লাশ হয়ে। শাশুড়িকে বটবৃক্ষের ছায়া হিসেবে দেখা বড় ছেলের স্ত্রী রিপা বেগম তাঁর মৃত্যুতে গভীরভাবে ভেঙে পড়েছেন।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুজ্জামান জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনা নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। শুক্রবার বাদ আসর ফিরোজা বেগমের লাশ দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।