যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আমেরিকানদের জীবনযাত্রার ব্যয়ে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে দেশটিতে ডিজেলের দাম পৌঁছেছে সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। সাধারণত ট্রাক, ট্রেন, নৌযান, বাস এবং কৃষি ও নির্মাণকাজে ব্যবহৃত যানবাহনে ডিজেল ব্যবহৃত হয়।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ) জানিয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৫.৮৫ ডলার। মাত্র এক বছর আগে এই দাম ছিল গড়ে ৩.৭১ ডলার। ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর জ্বালানির যে সর্বোচ্চ দাম দেখা গিয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি সেই রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। জ্বালানির এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আসন্ন নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়িয়ে তুলেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব অঞ্চলে এই মূল্যবৃদ্ধির হার সমান নয়। এএএর তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে ডিজেলের দাম অন্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি। এর অন্যতম কারণ হলো করের পার্থক্য এবং দেশটির তেল উৎপাদন কেন্দ্রগুলো থেকে এসব রাজ্যের ভৌগোলিক দূরত্ব। উদাহরণস্বরূপ, ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম এখন ৬.৮১ ডলার, যা এক বছর আগে ছিল ৫.০৩ ডলার।
শুধু ডিজেল নয়, পেট্রোলের দামও ঐতিহাসিকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে দেশটিতে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ৪.১৫ ডলার, যেখানে এক বছর আগে তা ছিল ৩.২০ ডলার। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে, যার পেছনে পাইকারি বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের বড় ধরনের উল্লম্ফন কাজ করছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার সঙ্গে একটি তেল চুক্তির মাধ্যমে “সব আমেরিকানের জন্য গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর” প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।