বাংলাদেশ পুলিশে নিয়োগ, পদোন্নতি এবং পোস্টিং নিয়ে বাণিজ্যের বিষয়টি নতুন কিছু নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে তা মহামারি আকার ধারণ করেছে। বাড়তি সুবিধা ছাড়া বর্তমানে এসব প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন এক সিন্ডিকেট, যারা সরাসরি পুলিশ অফিসারদের কেনাবেচায় জড়িয়ে পড়েছে। এই সিন্ডিকেট এলাকাভিত্তিক দরদাম নির্ধারণের কাজটিও নিয়ন্ত্রণ করছে।
সর্বশেষ তথ্যমতে, একজন জেলা পুলিশ সুপারকে নিয়োগ দেওয়ার বিনিময়ে তিন কোটি টাকা লেনদেনের খবরও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ওসি থেকে শুরু করে পুলিশ সুপার পর্যায়ের পদগুলোতে নিয়োগ বাণিজ্য বর্তমানে জমজমাট। বিশেষ করে যে সব জেলায় মাদকের বিস্তার বেশি, সেসব এলাকায় এই কারবারটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়মনীতি না থাকার সুযোগ নিয়ে এই সিন্ডিকেট দিন দিন তাদের প্রভাব বিস্তার করছে। অতীতে তদবিরের মাধ্যমে এসব কাজ হলেও, বর্তমানে তদবিরের কার্যকারিতা আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে।
যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি বা পোস্টিং পাওয়ার সুযোগ এখন প্রায় নেই বললেই চলে। যারা এই সুযোগ পাওয়ার যোগ্য, তাদের অনেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন। যারা কোনোভাবে পদোন্নতি বা বদলি পাচ্ছেন, তাদের বড় একটি অংশকে ভিন্ন পথে হাঁটতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মাঠ প্রশাসনে। গত ৫ই আগস্টের পর থেকে পুলিশ প্রশাসনে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কাটেনি। প্রশাসনিক আস্থা ফেরাতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে এবং খুন-খারাবির মতো অপরাধ বাড়ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলেও পুলিশ প্রশাসনকে ঘুরে দাঁড়ানোর মতো কার্যকর ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। সে সময় মব সন্ত্রাসের কারণে প্রশাসন অনেকটা কাবু হয়ে পড়েছিল, যার প্রভাব থেকে পুলিশও মুক্ত থাকতে পারেনি।