রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চের উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে এক উদ্বোধনী সমাবেশের মাধ্যমে এই কর্মসূচির সূচনা করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। লংমার্চটি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হবে এবং পথিমধ্যে পাঁচটি স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।

উদ্বোধনী সমাবেশে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী জোটের কর্মসূচি রূপী ওষুধ ইতিমধ্যেই কাজ করতে শুরু করেছে এবং বিভিন্ন স্থানে এর প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, তারা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ও জাতীয় সংসদে সমানভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। লংমার্চের পথে কোনো ধরনের বাধা পরোয়া করা হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিরোধী জোটের এই লংমার্চ মূলত ছয়টি দাবিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দাবিগুলো হলো—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন; জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা। এই ছয় দফার সঙ্গে জামায়াত আমির সপ্তম দফা হিসেবে যুক্ত করেন যে, দেশে কোনো চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজের অস্তিত্ব বরদাশত করা হবে না।

সমাবেশে শফিকুর রহমান দেশে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটের কথা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, সেবা না থাকলেও ভুতুড়ে বিল যথারীতি আদায় করা হচ্ছে। এই সংকটের প্রতিবাদে সিফাত নামের এক তরুণ কথা বলায় তাকে গ্রেপ্তার এবং থানায় নাজেহাল করার তীব্র নিন্দা জানান তিনি। সিফাতকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়ে জামায়াত আমির স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে নূর হোসেন, ইয়াসমিন ও ডাক্তার মিলনের মতো ত্যাগী মানুষদের আন্দোলন স্বৈরশাসকদের গদি ওলট-পালট করে দিয়েছিল।

সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন করে যারা স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে চাচ্ছে, তাদের পথ বন্ধ করতেই এই লংমার্চ শুরু হয়েছে। সরকার এই কর্মসূচিতে বাধা দিলে ছয় দফা আন্দোলন এক দফায় রূপ নেবে। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের দাবি না মানলে তাদের তা মানতে বাধ্য করা হবে। এখনই সতর্ক না হলে পূর্ববর্তী স্বৈরশাসকদের মতো তাদেরও দেশ ছেড়ে পালাতে হবে।

অনুরূপ হুঁশিয়ারি দিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, লংমার্চের বার্তা সময়মতো না বুঝলে পূর্ববর্তী স্বৈরশাসকদের মতোই পরিণতি ভোগ করতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সরকার দিন দিন মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ওয়াদা ভঙ্গ করেছে। তিনি সংসদে ভুল স্বীকার করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কারের দাবি জানান। এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, দেশের মানুষ যেভাবে ক্ষমতায় বসাতে পারে, তেমনি ক্ষমতা থেকে নামাতেও পারে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান (মঞ্জু), বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম। সমাবেশটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম।