চট্টগ্রামের লংমার্চে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা হলে ১১ দলের ছয় দফা দাবি এক দফায় রূপ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। শনিবার সকালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ১১ দলীয় জোটের চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই সতর্কবার্তা দেন।

সমাবেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই লংমার্চ দেশের সাধারণ মানুষের। সরকার যদি এতে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে, তবে সব বাধা উপেক্ষা করেই আন্দোলনকারীরা চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন এবং তখন ৬ দফা দাবি এক দফায় পরিণত হবে। তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিন্ডিকেট, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং ৭০ শতাংশ ভোটারের সঙ্গে প্রতারণাকারীদের বিরুদ্ধে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সমাবেশে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, ভোরেই বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন। এত ভোরে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল রাজপথে আসতে পারবে না দাবি করে তিনি বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে এমন একটি সমাবেশ ডেকে দেখার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারই প্রমাণ করে যে চাঁদাবাজ ও মাস্তানদের ভোট দিলে দেশ ভালোভাবে চলতে পারে না। তবে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমেই জনগণের দাবি আদায় করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ক্ষমতার মসনদে বসে যদি তারা জনগণকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করে, তবে তাদের টেনে নামাতে এক চুলও দ্বিধা করা হবে না।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করতে এই সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সরকারকে সংসদে দাঁড়িয়ে নিজেদের ভুল স্বীকার করে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যারা নতুন করে স্বৈরাচার হতে চাচ্ছে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেনি, তাদের বিরুদ্ধে এই লংমার্চ। লংমার্চে বাধা এলে ৬ দফা থেকে এক দফার আন্দোলন শুরু হবে বলে তিনি দেশবাসীকে এতে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান।