প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ৫৯। শ্রমজীবী মানুষকে জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করে তাদের টেকসই নিরাপত্তা, মর্যাদা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। শনিবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) সম্মেলন ও সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘মর্যাদা, অধিকার, ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতে এগিয়ে যাবার প্রত্যয়’ শীর্ষক এই সভায় তিনি শ্রমিকদের অবদানের কথা তুলে ধরেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, শ্রমিকরা শুধু শ্রম দেন না, বরং তারাই দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন। তার ভাষ্যমতে, শ্রমের মর্যাদা নিশ্চিত করা মানে দেশের মর্যাদা নিশ্চিত করা। ন্যায্য মজুরি কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং এটি শ্রমিকের ন্যায্য প্রাপ্য। নিরাপদ কর্মপরিবেশ প্রতিটি শ্রমিকের মৌলিক অধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমিকের কল্যাণ মানে শুধু একজন কর্মীর কল্যাণ নয়, বরং একটি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দক্ষ শ্রমিক দেশের অন্যতম বড় উৎপাদনশীল সম্পদ হিসেবে শিল্পের সক্ষমতা ও দেশের প্রতিযোগিতার শক্তি বাড়ায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে শ্রমিকের দক্ষতাকেও এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, নতুন শিল্প ও নতুন কর্মসংস্থানের জন্য আগামী প্রজন্মের শ্রমশক্তিকে প্রস্তুত করতে হবে। তিনি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে শ্রমিকের দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান। শিল্পখাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের ‘ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ ব্যবস্থা’ (ট্রাইপারটাইট কনসালটেশন)-এর মাধ্যমেই শিল্প খাতকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া হবে।

মালিক ও শ্রমিকের মধ্যকার সম্পর্ক কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে আস্থা, পারস্পরিক নির্ভরতা ও গভীর ভালোবাসার ভিত্তিতে গড়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি। মাহ্দী আমিন বলেন, কর্মক্ষেত্রে ন্যায়বিচার থাকলে আস্থা তৈরি হয়, আর আস্থা থাকলে উৎপাদন বাড়ে। নারী শ্রমিকের নিরাপত্তা ও সমান সুযোগের নিশ্চয়তা অর্থনীতির সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তিনি কর্মসংস্থানের পরিমাণের পাশাপাশি কাজের মান ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক পথযাত্রায়, বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শ্রমজীবী মানুষের ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করে উপদেষ্টা বলেন, নিজেদের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের কল্যাণ ও ন্যায়ের পক্ষে তাদের অবস্থান জাতীয় ইতিহাসের অনন্য অধ্যায়। বিলসের তিন দশকের পথচলা ও শ্রম অধিকার রক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির অবদানের প্রশংসা করে তিনি জানান, শ্রম খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদার ও সিভিল সোসাইটির সঙ্গে কাজ করছে। শ্রমজীবী পরিবারগুলোর সামাজিক নিরাপত্তায় সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পের মাধ্যমে নারী শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উক্ত সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষি বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিলসের মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন, জাপান ইন্টারন্যাশনাল লেবার ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ইয়াসুনোবু আইহারা, বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর জ্যানা ভ্যান ডার লিনডেন, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ জকরিয়া, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার এবং বিলসের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান ভূঁইয়া।