জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিভাজনকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের জেরে সাময়িক বরখাস্ত ও লঘুদণ্ড পাওয়া ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করেছে সরকার। প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ০০। গত ২ সেপ্টেম্বর এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়, যা পরে বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
শাস্তি মওকুফ পাওয়া কর্মকর্তাদের তালিকায় রয়েছেন উপকমিশনার মো. শাহাদাত জামিল, রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল বাশার, রাজস্ব কর্মকর্তা সবুজ মিয়া, উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইদুল আলম, কমিশনার জাকির হোসেন, যুগ্ম কমিশনার মো. সানোয়ারুল কবির, অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু, অতিরিক্ত কমিশনার আ আ ম আমীমুল ইহসান, অতিরিক্ত কমিশনার সিফাত-ই-মরিয়ম, অতিরিক্ত কমিশনার হাছান মুহাম্মদ তারেক রিকবদার, উপকর কমিশনার নো. জিল্লুর রহমান, উপকর কমিশনার ইমাম তৌহিদ হাসান শাকিল, অতিরিক্ত কর কমিশনার মির্জা আশিক রানা, যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা, যুগ্ম কর কমিশনার মামুন মিয়া, অতিরিক্ত কর কমিশনার মিজ চাঁদ সুলতানা, অতিরিক্ত কর কমিশনার সুলতানা হাবীব, অতিরিক্ত কর কমিশনার মুরাদ আহমেদ, যুগ্ম কর কমিশনার মিজ মাসুমা খাতুন এবং যুগ্ম কর কমিশনার মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দীন।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ২৪ জুন সকাল সাড়ে ১১টায় রাজস্ব ভবনের প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে এসব কর্মকর্তা পূর্বের ২২ জুন জারি করা বদলির আদেশ প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলেন। এই আচরণকে 'সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯'-এর ৩০৩ বিধির লঙ্ঘন এবং 'সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮'-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী 'অসদাচরণ' হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল। বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বেতন অবনমিত করার মতো লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
তবে দণ্ডাদেশ মার্জনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গত ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতির বরাবর আপিল আবেদন করেন। রাষ্ট্রপতি সেই আবেদন মঞ্জুর করায় তাদের বিভাগীয় মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ১৮ আগস্ট রাজস্ব সম্মেলনে কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে শাস্তি প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছিলেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এই পদক্ষেপ নিল।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে এনবিআরকে দুই ভাগে বিভক্ত করার অধ্যাদেশ জারির পর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলনে নামেন। এক পর্যায়ে 'কমপ্লিট শাটডাউন' কর্মসূচির ফলে আমদানি-রপ্তানিসহ সংস্থাটির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় আন্দোলন প্রত্যাহার করা হলেও এর আগে অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।