জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল-২০২৬ পাসের প্রক্রিয়ায় আপত্তি জানিয়ে জাতীয় সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। বিলটিকে ‘দুর্বল’ ও ‘দ্বৈত নীতির’ আখ্যা দিয়ে তারা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন। রোববার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে চলা সংসদ অধিবেশনে এই ঘটনা ঘটে।

অধিবেশনে বিলটি পাসের আগে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে এর তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য আইনে বৈষম্যমূলক বিধান রাখা হয়েছে। বিলের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশনকে একটি ইউনিফর্ম অথরিটি বা অভিন্ন কর্তৃত্ব দেয়া হয়নি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষ মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে কমিশন সরাসরি তদন্ত করতে পারবে। কিন্তু কোনো বাহিনীর সদস্য জড়িত থাকলে আগে তাদের নোটিশ দিয়ে জবাব চাইতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রথমবার তারা জবাব না দিলে কী হবে, আইনে তার কোনো নির্দেশনা নেই। দ্বিতীয়বার জবাব না দিলে তবেই কমিশন তদন্ত করতে পারবে, যা আইনের একটি বড় ফাঁক।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্যরাও এ দেশের নাগরিক। একই অপরাধে একজনের জন্য সরাসরি তদন্ত করা যাবে, আরেকজনের ক্ষেত্রে আটকে যাবেÑ এমন দ্বৈত প্রয়োগ হতে পারে না। আমরা আগেই বলেছিলাম এই ল্যাপস হওয়া আইনগুলো আরও শক্তিশালী করে আনতে হবে। কিন্তু তা করা হয়নি। আমরা এই দুর্বল আইন পাসের অংশীদার হতে চাই না।

এরপর বিলের আলোচনায় আর অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন। বিরোধী দলের সদস্যরা যখন ওয়াকআউট করে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, আপনাকেও ওয়াকআউট করার জন্য ধন্যবাদ। এরপর স্পিকারের আহ্বানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল-২০২৬’ স্থায়ী কমিটির সুপারিশকৃত আকারে অবিলম্বে বিবেচনার জন্য সংসদে প্রস্তাব উত্থাপন করেন।