জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, তার দল জাতীয় পার্টির মতো কোনো 'পোষা বিরোধী দল' হবে না। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পিরোজপুরে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে সারজিস আলম বলেন, তারা যেন এমন কোনো স্বপ্ন না দেখে। এনসিপির কর্মসূচি দলটির নেতাকর্মীরা নিজেরাই নির্ধারণ করবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

বিএনপির সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, বিএনপি বিরোধী দল হিসেবে অতীতে ব্যর্থ ছিল। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, যখন দলটি 'মার্চ টু ডেমোক্রেসি'র ঘোষণা দিয়েছিল, তখন একটি বালুর ট্রাক দিয়েই সেই কর্মসূচি আটকে দেওয়া হয়েছিল। সেই ব্যর্থ বিরোধী দলের কাছ থেকে কোনো নসিহত নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। কর্মসূচির ধরণ নিয়ে বিএনপির মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, 'তারা বলছে এটা লং মার্চ নয়, রোড মার্চ। আবার কেউ কেউ বলছে লং ড্রাইভ। আমাদেরটা যদি লং ড্রাইভ হয়, তাহলে বেগম খালেদা জিয়া যেটা করেছিলেন, সেটাও লং ড্রাইভ। আর তাঁরটা যদি লং মার্চ হয়, তাহলে আমাদেরটাও লং মার্চ।'

সারজিস আলম আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিএনপি যদি তাদের জায়গা থেকে এনসিপিকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে, তবে এর ফলাফল কখনোই ভালো হবে না। দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে তিনি জানান, দলের কেউ প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করলে এবং তা অগ্রহণযোগ্য ভাষায় হলে এনসিপি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। তবে সিফাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে করা মামলাকে তিনি 'মিথ্যা মামলা' বলে অভিহিত করেন। সারজিস দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতার অপব্যবহার করে সিফাতের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে এবং তাকে জেলে আটকে রেখেছে। সিফাত গালি দেওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এক বছর আগের মামলাটি মিথ্যা বলে তিনি দাবি করেন।

তারেক রহমানের বাক্‌স্বাধীনতা বিষয়ক বক্তব্যের সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, তারেক রহমানের মুখের কথা আর মনের কথা এক নয়। তিনি অভিযোগ করেন, একদিকে সমালোচনা করার স্বাধীনতা দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়, অন্যদিকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সমালোচনাকারীদের গ্রেপ্তার ও মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। পিরোজপুর জেলা আহ্বায়ক হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব মাইনুল আহসান মুন্নার সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডা. মাহমুদা আলম মিতু, সরোয়ার তুষার, শামীম হামিদী, অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন এবং ফাহাদ সিকদারসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।