চলতি বছর ২০২৬ সালে বাংলাদেশে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন রয়েছে। তবে বর্তমানে দেশে মোট চিকিৎসকের সংখ্যা ৩০ হাজার ৩১১ জন। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে ৫৮ হাজার ৫৯৮ জন। সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল তিনটায় সংসদের বৈঠক শুরু হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি হাসপাতালগুলোতে অনুমোদিত ৪১ হাজার ৮০৬টি পদের বিপরীতে বর্তমানে ৩০ হাজার ৩১১ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। অর্থাৎ সরকারি পর্যায়েই ১১ হাজার ৪৯৫টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, জনসংখ্যার অনুপাতে চিকিৎসকের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য জনবল মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত ২০২৬ সালের একটি গবেষণায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যূনতম মানদণ্ড—প্রতি ১ হাজার জনে ০.৫০ জন চিকিৎসক—অনুসরণ করে এই প্রয়োজনীয়তার হিসাব করা হয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সামগ্রিক চিকিৎসকের সংখ্যা এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় কর্মরত চিকিৎসকের সংখ্যা এক নয়।
শূন্য পদ পূরণ এবং জনগণের চাহিদা অনুযায়ী চিকিৎসক সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে মন্ত্রী সংসদে জানান। তিনি বলেন, ৪৪তম ও ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৪৫তম, 46তম, ৪৭তম ও ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী সার্জন নিয়োগের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। সরকারের এই নিয়োগ কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে। এছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের জনগণের জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।