প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ২৮। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন একটি এলাকায় নারীঘটিত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি পরিবারের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের দুই নেতার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় উভয়পক্ষের চারজন আহত হয়েছেন, যাদের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি সোমবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রহিমের বাড়িতে ঘটে।

আহত ছাত্রদল নেতারা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক পিয়াস আহমেদ রিফাত এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল মোল্যা। অন্যদিকে, স্থানীয়দের মধ্যে আহত হয়েছেন শিল্পী বেগম, তার স্বামী রহিম, ছেলে আরমান এবং জামাতা রিয়াজ। শিল্পী বেগম চরকাউয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য।

ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, তারা ওই ব্যক্তিদের অসামাজিক কার্যক্রমে জড়িত থাকার বিষয়টি জানতে পেরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে অর্থের বিনিময়ে মীমাংসার প্রস্তাব দেন। তবে ওই পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করে। এরপর রহিমের জামাতা রিয়াজ ও ছেলে আরমান ‘ডাকাত’ বলে চিৎকার শুরু করলে একপর্যায়ে দুই ছাত্রদল নেতাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ঘরে আটকে মারধর করা হয়। পরে তাদের সঙ্গে থাকা আরেক ছাত্রদল নেতা রায়হান ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে অন্যান্য নেতাকর্মীদের খবর দিলে তারা গিয়ে আটক দুই নেতাকে উদ্ধার করেন। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মারামারি হয়।

অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা রহিম মিয়ার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ডাকাতির উদ্দেশ্যে বাইরে থেকে মেয়ে এনে তাদের জিম্মি করে ডাকাতি করতে চেয়েছিল। তিনি বলেন, 'আমরা তাদের প্রতিহত করেছি। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। তারা যাওয়ার সময় আমাদের বাড়িঘর তছনছ করেছে এবং বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে গেছে।' তিনি বর্তমানে ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আছেন বলে জানিয়েছেন।

৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জুয়েল হোসেন জানান, তিনি চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে মারামারির ঘটনা দেখেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী এসে বাড়িঘর লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ করেন।

বরিশাল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, মোবাইল ফোনে তথ্য পেয়ে পুলিশের টহল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আহত একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই মামলা করেনি।