প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬: ৫৬

ইতালির ভেনিসে সফররত বিশিষ্ট অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটির নেতারা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সন্ত্রাসের আন্তর্জাতিক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, একজন নারী শিল্পী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিদেশে বেড়াতে গিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। এই ঘটনা শুধু নিন্দনীয়ই নয়, এটি আওয়ামী লীগের ফেসবুকবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক ভয়ংকর রূপকে উন্মোচিত করে।

নেতৃদ্বয় বলেন, দেশের মাটিতে ক্ষমতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে বিরোধী মত দমন, হামলা ও ভীতি প্রদর্শনের যে সংস্কৃতি আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করেছিল, ভেনিসের ঘটনা তারই আন্তর্জাতিক বহিঃপ্রকাশ। দেশ ছাড়লেও তাদের সন্ত্রাসী মানসিকতার কোনো পরিবর্তন হয়নি। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে বিদেশের মাটিতে কোনো নাগরিক ও তার পরিবারের ওপর হামলা চালানো কোনো সভ্য সমাজেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তারা আরও বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিক চরিত্র হারিয়ে সহিংসতা ও দমন-পীড়নের প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। বিদেশের মাটিতে একজন স্বনামধন্য অভিনয়শিল্পীর ওপর এই হামলা তাদের সেই অসহিষ্ণু সংস্কৃতিরই প্রমাণ দেয়।

বিবৃতিতে এবি পার্টির নেতারা স্পষ্ট করে বলেন, ইতালিতে বসবাসরত বা সফররত কোনো বাংলাদেশি যদি রাজনৈতিক কারণে অন্যের ওপর হামলা বা শারীরিকভাবে হেনস্তা করে, তবে তার পরিচয় যা-ই হোক, সে একজন সন্ত্রাসী। ভেনিসের এই ঘটনাটি ইতালির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে, ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এগিয়ে এসে বাঁধন ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

এর আগে, ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। বাংলাদেশ সময় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় তিনি এই অভিযোগ তুলে ধরেন।

বাঁধন জানান, স্থানীয় একটি পার্কে ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তার গায়ে কোক ও ডিম ছুড়ে মারা হয় এবং তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়। এমনকি তার মোবাইল ফোনটিও কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়।

অভিযোগ করে এই অভিনেত্রী বলেন, হামলাকারীরা তাকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে হামলা চালায়। তারা তাকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করে এবং সেই দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করে। এ সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করার পাশাপাশি তার গায়ে হাত তোলা হয় এবং তার ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, একদল ব্যক্তি নিজেদের ছাত্রলীগ কর্মী দাবি করে বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিচ্ছে এবং তার ওপর চড়াও হয়ে পানি ও পচা ডিম ছুড়ে মারছে।