দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি হ্রাস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে সৌর বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপনের যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে বড় ধরনের শুল্ক-কর ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই বৈঠকে তামাকের অবৈধ বাণিজ্য রোধে নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য পুনর্নির্ধারণ এবং বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তির খসড়াও অনুমোদিত হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে সৌর বিদ্যুতের যন্ত্রাংশ আমদানিতে ৬ মাসের কর ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ১৮০ দিন বা ছয় মাস পর্যন্ত আমদানিকৃত যন্ত্রাংশের ওপর ১ শতাংশের অতিরিক্ত কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, মূসক, আগাম কর এবং অগ্রিম আয়কর থেকে পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হবে। এর ফলে দ্রুততম সময়ে দেশে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে, যা বিদ্যুৎ ঘাটতি কমিয়ে শিল্প উৎপাদন বজায় রাখতে এবং উৎপাদন ব্যয় ও যন্ত্রপাতির ক্ষতি কমাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে。

বৈঠকে 'মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২'-এর আওতায় নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। অবৈধ তামাকের ব্যবসা বন্ধ করা এবং সরকারের রাজস্ব ঘাটতি কমানোর উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ১০ শলাকা নিম্নস্তরের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৬২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সিগারেটের মূল্য নির্ধারণ এবং স্ট্যাম্প ও ব্যান্ড রোল ব্যবহার বিধিমালা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন সংশোধনের প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

এছাড়া, বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে বাণিজ্যিক নিরাপত্তা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ‘প্রমোশন অ্যান্ড প্রোটেকশন অব ইনভেস্টমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট’ শীর্ষক চুক্তির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ১০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং চুক্তি স্বাক্ষরের ৩ বছর পর উভয় পক্ষ তা সংশোধনের সুযোগ পাবে। বর্তমানে বাংলাদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের ষষ্ঠ বৃহত্তম উৎস হলো হংকং। এই চুক্তিটি তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইলসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দেশের শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।