এল নিনো আবহাওয়াজনিত কারণে সৃষ্ট তীব্র খরায় পানামা খালের স্বাভাবিক কার্যক্রম আবারও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। খালের জলাধারগুলোর পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যা আরও সীমিত করার পরিকল্পনা করছে। এর আগে খরার কারণে ২০২৩ সালে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা ৩৮টি থেকে কমিয়ে ২২টিতে নামিয়ে আনা হয়েছিল। বিশ্বজুড়ে পণ্য সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি দিয়ে প্রতিদিন মোট সমুদ্রপথের প্রায় ৫ শতাংশ বাণিজ্য পরিচালিত হয়।

চলতি বছরের এল নিনো গত চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির কারণে পানামায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি হওয়া এই আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ধরন বদলে দিচ্ছে এবং বৈষ্ণিক তাপমাত্রা বাড়াচ্ছে। এদিকে, হরমুজ প্রণালীর বিকল্প হিসেবে ব্যবসায়ীদের কাছে পানামা খালের গুরুত্ব বাড়ায় বর্তমানে এর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। ইরানের অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বিকল্প পথ হিসেবে পানামা খালকে বেছে নিচ্ছেন।

সোমবার পানামা খাল কর্তৃপক্ষের প্রধানের দায়িত্ব নেওয়া ইলিয়া এসপিনো দে মারোত্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ফেব্রুয়ারি বা মার্চ নাগাদ দৈনিক জাহাজ চলাচলের সীমা আরও কমিয়ে ২৯টির কাছাকাছি আনা হতে পারে। বর্তমানে গত মাসের ৩৬টি থেকে কমিয়ে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ৩২টি জাহাজ চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খালটি পরিচালনার জন্য বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করতে হয়, যা দিয়ে লক ব্যবস্থার মাধ্যমে জাহাজ ওপরে তোলা বা নিচে নামানো হয়। প্রতিটি জাহাজ পারাপারে প্রায় ২০ কোটি লিটার পানির প্রয়োজন হয়, যা পরে সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া হয়।

জাহাজের সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ খালে চলাচলকারী জাহাজের সর্বোচ্চ ড্রাফট বা পানির নিচে জাহাজের গভীরতা ১৫ দশমিক ২ মিটার থেকে কমিয়ে ১৪ দশমিক ৬ মিটার করেছে। ড্রাফট হলো পানির উপরিভাগ থেকে জাহাজের তলদেশের সবচেয়ে নিচের অংশ পর্যন্ত উল্লম্ব দূরত্ব, যা নিরাপদে ভাসতে ও তলদেশে আটকে না যেতে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই বিধিনিষেধের ফলে পণ্য পরিবহনে সময়ক্ষেপণ ও খরচ উভয়ই বৃদ্ধি পেতে পারে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের কনটেইনার পরিবহনের ৪০ শতাংশই এই খাল দিয়ে সম্পন্ন হয় এবং এটি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে দ্রুততম সমুদ্রপথ। এছাড়া বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য পানামা খাল এখন একটি অপরিহার্য রুট হয়ে দাঁড়িয়েছে।