ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় মনিরুল হাওলাদার (২৪) নামের এক তরুণ জড়িত বলে জানা গেছে। মনিরুল নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ধুরাইল ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের খালানিকান্দি এলাকায়। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর তিনি দেশ ছাড়েন।

হামলার ঘটনার পর আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে মনিরুলের বাড়িতে স্থানীয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা-কর্মীরা ভিড় করতে থাকেন। একপর্যায়ে মনিরুলের পরিবারের সদস্যরা ঘরে তালা দিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। মনিরুলের প্রতিবেশী চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, সকাল থেকেই গোয়েন্দা বিভাগের লোকজন বাড়িতে আসতে শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা ভয় পেয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। তবে তাঁরা কোথায় গেছেন, তা তিনি বলতে পারেননি।

মনিরুলের বাড়ি দুটি ভাঙাচোরা টিনশেড ঘর। একটি চারচালা ও অপরটি দোচালা। বাড়িতে তাঁর মা ও বড় ভাই থাকতেন। মনিরুলের সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদার জানান, দেড় বছর আগে ২৮ লাখ টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাড়ি জমান মনিরুল। তিনি বলেন, এলাকায় থাকা অবস্থায় মনিরুল ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিদেশে গিয়েও তিনি দল করা শুরু করেছেন। ওবায়দুল আরও জানান, মনিরুল গ্রামের বাড়িতে এখনো ঘর করতে পারেননি, উল্টো ঋণের বোঝা তাঁর মা ও ভাইয়ের মাথার ওপর। তিনি বলেন, বিদেশে বসে দেশের মান-সম্মান শেষ করে দিয়েছে, ওর বিচার করা হোক, আমরা ওর সাথে নেই।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক বলেন, ঘটনাটি জানার পর থেকেই মনিরুলের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। যেহেতু ঘটনাটি দেশের বাইরে, তাই তাঁর বিরুদ্ধে ওই দেশের আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, মনিরুলের বাড়িতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং কেউ যেন হামলা করতে না পারে, সে ব্যাপারে পুলিশ সতর্ক আছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তিনি সব ধরনের সহযোগিতা করছেন।

জেলা ছাত্রশক্তি সদস্যসচিব আরিয়ান সায়েম বলেন, সকালে ঢাকা থেকে জুলাইযোদ্ধা আয়ান মাদারীপুরে আসেন। পরে তাঁরা পুলিশ নিয়ে মনিরুলের বাড়িতে যান, কিন্তু তাঁরা পৌঁছানোর আগেই পরিবারের সদস্যরা ঘর ছেড়ে চলে যান। তাঁরা সেখানে আধা ঘণ্টা ছিলেন এবং কেউ মব করার চেষ্টাও করেনি। আরিয়ান জানান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাওলাদারও সেখানে এসেছিলেন এবং তিনি মনিরুলের বিচারের দায়িত্ব নিয়েছেন। চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, মনিরুল দেশে থাকতে ছাত্রলীগ করত, বিদেশে বসেও ছাত্রলীগ করে বলে জেনেছি। তিনি বাড়িতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করেছেন এবং সদর থানা পুলিশ বিষয়টিতে নজর রাখছে।

উল্লেখ্য, ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গেছেন বাঁধন। বর্তমানে তিনি মেস্ত্রে শহরে অবস্থান করছেন। সোমবার রাতে ভাই ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় একটি পার্কে গেলে এই হামলার ঘটনা ঘটে।