হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ও চালকহীন সাবমেরিন ড্রোন আটক করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আইআরজিসির বরাতে এই তথ্য প্রচার করা হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তাদের একটি পুরোনো মডেলের ড্রোন সেখানে বিকল হয়ে পড়েছিল।

ইরানের নৌবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ভোরে হরমুজ প্রণালীর প্রবেশমুখে একটি গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের এই স্মার্ট ও মানুষবিহীন সাবমেরিনটি আটক করা হয়। আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সাবমেরিনটি পানির নিচের প্রযুক্তির দিক থেকে অত্যন্ত আধুনিক এবং এটি ২০২৫ সালে মার্কিন নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হয়েছিল। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই ড্রোনটির প্রধান কাজের মধ্যে রয়েছে পানির নিচে নজরদারি ও অনুসন্ধান চালানো, সমুদ্রের তলদেশের মানচিত্র তৈরি করা, মাইন শনাক্ত করা এবং সাবমেরিন কেবল ও পাইপলাইন পর্যবেক্ষণ করা।

অন্যদিকে, ইরানের এই দাবির পর এক মার্কিন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানান, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর পরিচালিত একটি আন্ডারওয়াটার ড্রোন একদিনের বেশি সময় আগে বিকল হয়ে পড়েছিল। ওই কর্মকর্তার দাবি, এটি একটি পুরোনো মডেলের ড্রোন ছিল যা আঞ্চলিক জলসীমায় চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে সাধারণ জরিপ চালাচ্ছিল। এটি কোনো গোপন বা সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছিল না এবং এতে কোনো বিশেষ সোনার বা রাডার সরঞ্জামও ছিল না।

উল্লেখ্য, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরান এই প্রণালীতে তাদের নিয়ন্ত্রণ ও অবরোধ বজায় রেখেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও ইরানের বিভিন্ন বন্দরে পাল্টা নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ আরোপ করা হয়েছে。