পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত হওয়ার মাধ্যমে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে আমানতকারীদের টাকা তোলার প্রক্রিয়া দ্বিতীয় দিনেও অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ব্যাংকটি থেকে ৭ হাজার ৮৯৬ জন গ্রাহক মোট ৩২৭ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। এর আগের দিন অর্থাৎ সোমবার ৫ হাজার ৫৩২ জন গ্রাহক ২৫৪ কোটি টাকা উত্তোলন করেছিলেন। ফলে দুই দিনে মোট ১৩ হাজার ৪২৮ জন গ্রাহক ব্যাংকটি থেকে সর্বমোট ৫৮১ কোটি টাকা তুলেছেন।
সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তের আলোকে গত সোমবার থেকে এই আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে ১ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়কালে আমানত ফেরত পেতে আগ্রহী গ্রাহকদের কাছ থেকে আবেদন সংগ্রহ করা হয়েছিল। ওই নির্দিষ্ট সময়ে প্রায় ৭৪ হাজার আমানতকারী মোট ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন জানিয়েছিলেন।
আমানত ফেরতের পাশাপাশি বর্তমানে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে অনলাইনে অর্থ স্থানান্তর কার্যক্রমও চালু হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন স্থবির থাকার পর নতুন ব্যাংকটির সামগ্রিক কার্যক্রমে গতি আসতে শুরু করেছে। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক—এই পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া এই উদ্যোগে ব্যাংকগুলো একীভূত হলেও বর্তমানে এদের ৭৬১টি শাখা এখনো পৃথকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধের সুবিধার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাতে কোনো আমানতকারী টাকা না পেয়ে ফিরে না যান, সেজন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। এদিকে, একীভূত এই পাঁচ ব্যাংকের সব শেয়ারের মূল্য শূন্য ঘোষণা করে মালিকানা সরকার গ্রহণ করেছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংকটে থাকা এই ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সাইফুল আলমের (এস আলম) নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং এক্সিম ব্যাংক ছিল নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে।