প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ২৭। পরমাণু অস্ত্র তৈরি ঠেকাতে নির্ধারিত নিরাপত্তা-ব্যবস্থা মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে ইরানকে জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। বুধবার কূটনৈতিক কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আইএইএ-এর পরিচালনা পর্ষদের ৩৫ জন সদস্যের মধ্যে ২৩ জন তেহরানের বিষয়টি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। রাশিয়া, চীন এবং নাইজার এই প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এই পদক্ষেপটি বর্তমান ইরান যুদ্ধ শুরুর সাত মাস আগে এবং 'অপারেশন মিডনাইট হ্যামার'-এর আওতায় ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কয়েক দিন আগে পাস হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরান পরমাণু নিরাপত্তা ব্যবস্থা মানছে না বলে যে প্রস্তাব পাস হয়েছিল, বর্তমানের এই সিদ্ধান্ত তারই ধারাবাহিকতা।

তেহরানের কূটনীতিকেরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি তোলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো 'পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার নিয়ে কুমিরের কান্না' করছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, পশ্চিমা দেশগুলো 'শান্তিপূর্ণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় থাকা পরমাণু স্থাপনাগুলোর ওপর নজিরবিহীন ব্যাপক হামলা, নৃশংস যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের' ন্যূনতম নিন্দা জানাতেও 'ভণ্ডের মতো' এড়িয়ে যাচ্ছে।

কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের পরমাণু নীতিবিষয়ক বিভাগের প্রধান ও পদার্থবিদ জেমস অ্যাক্টন জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত ও রাজনৈতিক উভয় কারণেই ইরান যদি এখন পরমাণু বোমা তৈরি করতে চায়, তবে তারা তা করতে সক্ষম। তার মতে, আগামী তিন বছরের মধ্যে ইরানের পরমাণু বোমা অর্জনের সম্ভাবনা '৫০-৫০'।