ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধি অংশ নেবেন না। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত রোহিঙ্গাবিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারের ফাঁকে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বিষয়টি পরে বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও জানানো হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এই প্রেক্ষাপটেই বাংলাদেশ সম্মেলনে প্রতিনিধি না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আউটরিচ পর্বে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের এই হঠাৎ ঘোষণায় বিস্ময় ও জল্পনা তৈরি হয়েছিল।
তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চললেও এখনো কোনো দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারত তাঁকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। এরপর সম্ভাব্য সফর নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চললেও তা থমকে যায়। বিশেষ করে গত ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতিতে বক্তব্য দেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, আগামী শনিবার ও রোববার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।