পাঁচটি করবর্ষের বিপরীতে প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা অনাদায়ি কর দাবি ঘিরে কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণের করা দুটি রিট খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করেন। গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ। তিনি জানান, ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭—এই পাঁচটি করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে এই বিশাল অংকের কর বকেয়া ছিল। রিট দুটি খারিজ হওয়ার ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে এখন সরকারের রাজস্ব বাবদ প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। রায় পাওয়ার পর ট্যাক্স বিভাগ ৩০ দিন সময় দিয়ে দাবি আদায়ের জন্য নোটিশ ইস্যু করবে।
গ্রামীণ কল্যাণের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, আদালতের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর তারা আপিল করবেন। শুনানিতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী ফিদা এম কামাল ও সরদার জিন্নাত আলী।
এর আগে, ২০১৭ সালে কর কমিশনারের কর দাবির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণ হাইকোর্টে দুটি রিট করেছিল। প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণসহ রুল নিষ্পত্তি করে রায় দিয়েছিলেন, যেখানে কর কমিশনারের আদেশ বাতিল করে বিলম্ব মার্জনা সাপেক্ষে শর্তসাপেক্ষে আইন অনুসারে ৬০ দিনের মধ্যে আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করে। আপিল বিভাগের নির্দেশনায় হাইকোর্ট পুনরায় শুনানি গ্রহণ করেন।
চলতি বছরের ৪ আগস্ট একই হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট দুটি খারিজ করে রায় দিয়েছিলেন, কিন্তু ২৯ আগস্ট সেই রায় প্রত্যাহার করা হয়। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় যে, ওই দ্বৈত বেঞ্চের দ্বিতীয় বিচারক একসময় এসব মামলায় সরকারপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যেহেতু তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তাই রায়টি ত্রুটিপূর্ণ (ডিফেক্টিভ) হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। পাশাপাশি মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে পাঠান, যার ধারাবাহিকতায় শুনানি শেষে আজ চূড়ান্ত এই রায় এলো।
পুনর্মূল্যায়নের পর পাঁচ করবর্ষের বিপরীতে ৬০০ কোটির বেশি টাকা প্রদেয় কর দাবি ঘিরে কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি রিট খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।এর আগে গ্রামীণ কল্যাণের করা ওই দুটি রিট খারিজ করে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ।