১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ রাত ২০:৫৪ মিনিটে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার দেওয়ানীয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জ্যোৎস্না আরা বেগমের ৪০ বছরের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের সমাপ্তি ঘটেছে। এ উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক অশ্রুসিক্ত ও আবেগঘন পরিবেশে তাঁকে জমকালো গণসংবর্ধনা ও রাজকীয় বিদায় জানানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই বিদায়ী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এই গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল আলীম এবং সঞ্চালনা করেন মফিজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বইলর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মনিরুজ্জামান সোমেল, দেওয়ানীয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান মিলন, প্রাক্তন শিক্ষক মজিবুর রহমান, প্রধান শিক্ষক আয়েশা মোস্তারি এবং সহকারী শিক্ষিকা তাসলিমা বেগম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষিকার প্রতি সম্মান জানিয়ে মানপত্র পাঠ করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নূরে গুলশান। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, এলাকাবাসী ও বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন আসাদুজ্জামান আসাদ, ১৯৮৪ ব্যাচের সুজন, ১৯৯৩ ব্যাচের ওসমান গনি ও মামুন মিয়া, ১৯৯৬ ব্যাচের মো. সেলিম ফরাজী, মুফতি মাওলানা সোহাইল মিয়া এবং মো. রাসেল।
আয়োজকদের অন্যতম মো. সেলিম ফরাজী তাঁর স্মৃতিচারণ করে বলেন, 'জ্যোৎস্না ম্যাডাম অত্যন্ত ভদ্র ও নরম মনের মানুষ ছিলেন। দীর্ঘ ৪০ বছর তিনি শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো আদর-স্নেহ দিয়ে শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর শিক্ষা, আদর্শ ও মূল্যবোধ আমাদের চলার পথে চিরদিনের প্রেরণা হয়ে থাকবে।' আয়োজকরা আরও জানান, দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে জ্যোৎস্না আরা বেগম অসংখ্য শিক্ষার্থীকে পরম স্নেহে গড়ে তুলেছেন, যাঁদের অনেকেই বর্তমানে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ এক আবেগঘন মিলনমেলায় রূপ নেয়। দীর্ঘদিনের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর গভীর সম্পর্ক ও স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে সেখানে এক হৃদয়স্পর্শী পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠান শেষে প্রিয় শিক্ষিকাকে বিদায় জানাতে ফুল দিয়ে সাজানো একটি ঘোড়ার গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়। অশ্রুসিক্ত নয়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় রাজকীয়ভাবে প্রিয় শিক্ষিকা জ্যোৎস্না আরা বেগমকে বিদায় জানানো হয়।