সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বর্তমানে নতুন কোনো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট করেছে ইসলামাবাদ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চুক্তির মূল কমান্ড কাঠামো সম্পূর্ণরূপে শক্তিশালী না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র মক্কা চুক্তির শর্তাবলী বাস্তবায়নে পাকিস্তানের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষিতে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আপাতত কোনো আলোচনা হচ্ছে না বলেও তিনি পরিষ্কার করে দেন। গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর হামলায় সৌদি আরবের খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটি এবং নিকটবর্তী শহরের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই হামলায় অন্তত ৭৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাসে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা হলে তা বাকি সব দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। হামলার পরপরই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছিলেন, সৌদি আরবের ওপর যেকোনো আগ্রাসনের মুখে এই চুক্তি কার্যকর হতে পারে।
সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান ইয়েমেনি হুতিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়টিকে ‘কাল্পনিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি সম্পূর্ণ একটি কাল্পনিক বিষয়। পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী তা কার্যকর করবে। তবে এই মুহূর্তে এ ধরনের কোনো আলোচনা হচ্ছে না।