কারিগরি ত্রুটির কারণে ভারতের ঝাড়খণ্ডে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল দিবাগত রাত ১২টার দিকে এই কারিগরি বিপর্যয় ঘটে। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় সারা দেশে লোডশেডিংয়ের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মূলত বয়লারে সমস্যা দেখা দেওয়ার কারণে এই ত্রুটি ঘটেছে। বয়লারটি সম্পূর্ণ শীতল হতে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এরপরই কেবল ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। ফলে কেন্দ্রটি থেকে পুনরায় স্বাভাবিক উৎপাদন শুরু হতে আরও কয়েক দিন সময় লেগে যেতে পারে।

ঝাড়খণ্ডের এই ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। ২০১৭ সালে পিডিবির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়ের চুক্তি করে আদানি। চাহিদা অনুযায়ী এই কেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ডও রয়েছে। তবে গত ৭ আগস্ট ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন সীমিত হয়ে পড়েছিল। কয়লা সরবরাহ বাড়ার পর বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে উৎপাদন বাড়ছিল। গত মাসের শেষের দিকে দিনে ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ করা হচ্ছিল। গতকাল রাতে উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেলেও একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে উৎপাদন ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে।

পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, কেবল আদানি নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোও নানা সংকটে জর্জরিত। গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি কয়লাস্বল্পতা ও কারিগরি ত্রুটির কারণে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ রয়েছে এবং পটুয়াখালীর অন্য একটি কেন্দ্রে কয়লার ঘাটতি রয়েছে। বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রও কয়লা সংকটের কারণে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।

জ্বালানি তেল থেকে উৎপাদন বাড়িয়েও এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বাড়ছে। গতকাল বিকেল ৩টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট। আজ ছুটির দিনেও সকাল থেকে সারা দেশে আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।