প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬: ১৯ (12 September 2026, 06:19)
বাংলাদেশে একটি মানবিক পরিবেশ সৃষ্টির তাগিদ দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, এমন একটি দেশ গঠন করা প্রয়োজন যেখানে সত্য প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের কোনো অন্যায় হয়রানি বা ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সাংবাদিকতা অঙ্গনে বর্তমানে অসংখ্য চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যার ফলে অনেক সময় নির্ভীক সাংবাদিকদের কোণঠাসা হয়ে পড়তে হয়। ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটলেও তাদের অনেকে এখনো ভিন্ন ভিন্ন রূপে সক্রিয় রয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেন।
রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও মহানগরী প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বশীলদের নিয়ে আয়োজিত দিনব্যাপী এক কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গত শুক্রবার এই কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের অভিযোগ করেন, কায়েমি ও ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলো দেশের ব্যাংকিং খাতের পাশাপাশি গণমাধ্যমকেও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। এই অশুভ শক্তিটি সর্বদা জামায়াতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে রেখেছে এবং সুযোগ পেলেই আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। এ কারণে দলের নেতাকর্মীদের অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পথ চলার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর এই কায়েমি শক্তিটি বিভিন্ন গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সাময়িকভাবে সরকারকে সুবিধা দিলেও, ভবিষ্যতে তারা যেকোনো সময় উল্টো ছোবল দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে সঠিক তথ্য সাংবাদিকদের কাছে সরবরাহ করে সত্যকে তুলে ধরার জন্য জামায়াতের প্রচার বিভাগের দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকারের সঞ্চালনায় এই কর্মশালায় বিষয়ভিত্তিক আলোচনা উপস্থাপন করেন জনেসর্বোচ্চ সাংবাদিক ওলিউল্লাহ নোমান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও মানবকণ্ঠ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, টিআরটি ওয়ার্ল্ডের বাংলাদেশ প্রতিনিধি কামরুজ্জামান বাবলু এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে দারসুল কোরআন পেশ করেন মুফতি আলী হাসান উসামা। এছাড়া কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন আইউবী এবং দৈনিক সংগ্রামের বার্তা সম্পাদক শামছুল আরেফীনসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরী থেকে আসা প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বশীলরা।