ইয়েমেনের কৌশলগত জলপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। শুক্রবার প্রণালির মাঝখানে অবস্থিত মায়ুন বা পারিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে তারা। এই অর্জনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের ওপর হুতিদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হলো। ইয়েমেনের এক সরকারি কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এএফপিকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সরকারি বাহিনী মায়ুন দ্বীপ থেকে সরে যাওয়ার পর হুতি যোদ্ধারা সেখানে পৌঁছে দ্বীপটির দখল নেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সরকারি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, হুতিরা বাব এল-মান্দেব এলাকা ও মায়ুন দ্বীপের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, দ্বীপটির উঁচু এলাকা থেকে হুতিরা বাব এল-মান্দেব প্রণালির ওপর নজরদারি চালাতে পারবে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হুতি যোদ্ধারা সামরিক যান নিয়ে বাব এল-মান্দেবের উপকূলজুড়ে টহল দিচ্ছে। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগকারী এই প্রণালিটি পণ্যবাহী জাহাজ এবং তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রণালির আশপাশে জুকার, মায়ুন, গ্রেট হানিশ ও লিটল হানিশ—এই চারটি কৌশলগত দ্বীপ রয়েছে। বৃহস্পতিবার হুতিরা জুকার দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পাশাপাশি হানিশ দ্বীপপুঞ্জে থাকা সরকারি বাহিনীর দুই হাজারের বেশি সেনাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে বলে সামরিক সূত্রে জানা গেছে। অবরুদ্ধ সেনারা খাবার, পানি ও উদ্ধার সহায়তা চেয়েছেন এবং তাঁদের উদ্ধারে বিমান পাঠানোর প্রয়োজন হতে পারে।
ইয়েমেনের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুই দফায় ফোন করেছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ফোনালাপে সৌদি যুবরাজ পরিস্থিতির অবনতির কথা জানান এবং কয়েক ঘণ্টা পর দ্বিতীয় ফোনালাপে হুতিদের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অনুরোধ করেন। তবে ট্রাম্প সেই অনুরোধে রাজি হননি। এদিকে ওয়াশিংটন হুতিদের বিষয়ে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কিত তথ্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সৌদিতে অবস্থানরত দুই শতাধিক মার্কিন সেনা বর্তমানে রিয়াদকে ‘নন-কাইনেটিক সহায়তা’ দিচ্ছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি যুবরাজের প্রথম ফোনালাপের সময় হুতিরা উপকূলীয় শহর মোচার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল এবং পরবর্তী সময়ে তারা শহরটির নিয়ন্ত্রণও নেয়। মায়ুন দ্বীপ দখলের মাধ্যমে প্রণালিটির ওপর হুতিদের নিয়ন্ত্রণ এখন আরও সুসংহত হলো।