নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের লাখপুর গ্রামে শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসলে নেমে এক পরিবারের পাঁচ সদস্য স্রোতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের বাঁচাতে গিয়ে স্থানীয় এক তরুণ ও এক সৌদিপ্রবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো দুজন নিখোঁজ রয়েছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ভঙ্গাল এলাকার সৌদিপ্রবাসী ওবায়দুল্লাহ (৩৮) তাঁর স্ত্রী–সন্তানসহ লাখপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। বেলা দুইটার দিকে পরিবারের ছয় সদস্য শীতলক্ষ্যায় গোসলে নামলে স্রোতের তোড়ে তাঁরা তলিয়ে যেতে থাকেন। প্রথমে শান্তা আক্তার ডুবে যেতে থাকলে তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর বোন শাহীনুর আক্তারও হাবুডুবু খেতে শুরু করেন। পরিস্থিতি দেখে ওবায়দুল্লাহ ও শান্ত মিয়া (২৪) তাঁদের উদ্ধারে নামলে সবাই বিপদে পড়েন।

এ সময় স্থানীয় তরুণ মো. সৌরভ মিয়া তাঁদের বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন। তিনি শাহীনুর আক্তার ও তাঁর শিশুসন্তানকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসেন। তবে অন্যদের বাঁচাতে পুনরায় নদীতে নামলে সৌরভ নিজেও স্রোতের তোড়ে তলিয়ে যান। স্থানীয়দের অনেক চেষ্টার পরও তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

খবর পেয়ে শিবপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটা থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তীব্র স্রোতের কারণে প্রথম দিনের অভিযান ব্যর্থ হয়। এরপর আজ শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টায় ভৈরব থেকে আসা ডুবুরি দল নিয়ে পুনরায় উদ্ধারকাজ শুরু হয়। সকাল ১০টার দিকে ওবায়দুল্লাহ ও সৌরভের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শিবপুর থানার উপপরিদর্শক নাদিম হাসান জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া দুজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন শান্তা আক্তার ও মো. শান্ত মিয়া। বেলা একটা পর্যন্ত তাঁদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত ছিল।

প্রায় ১৯ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর ওই তরুণসহ দুজনের লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।

নিখোঁজ দুজন হলেন তাঁর স্বজন শান্তা আক্তার (২৫) ও মো.