হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকায় সক্রিয় অপরাধী চক্রগুলোর তৎপরতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী ও প্রবাসী যাত্রীদের টার্গেট করে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা ছিনতাই, ডাকাতি ও প্রতারণা রুখতে পুরো বিমানবন্দর এলাকাকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে। পূর্বের ক্যামেরাগুলোর পাশাপাশি নতুন করে আরও শতাধিক অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।
বিমানবন্দর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাওলা থেকে শুরু করে উত্তরার ‘জসিম উদ্দিন মোড়’ পর্যন্ত পুরো এলাকাকে এই নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। ইতিমধ্যে থার্ড টার্মিনালের সামনে থেকে গোলচত্বর মোড় পর্যন্ত ২৫টি ক্যামেরা সচল রয়েছে। এছাড়া ক্রাউন প্লাজা থেকে জসিম উদ্দিন মোড় পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে, অর্থাৎ বিমানবন্দরের স্টেশনের সামনে থেকে রেললাইন পার হয়ে হজ ক্যাম্প পর্যন্ত পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আসবে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ জানান, পুলিশ, বেবিচক, সিটি করপোরেশন ও ক্রাউন গ্রুপের যৌথ সমন্বয়ে এই ক্যামেরাগুলো লাগানো হচ্ছে, যার ফলে থানা থেকেই পুরো এলাকার পরিষ্কার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রবাসীদের নিরাপত্তাই তাদের মূল অগ্রাধিকার এবং অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।
বিমানবন্ধরে সক্রিয় শতাধিক চক্রের প্রতারণার কৌশল অত্যন্ত চতুর। র্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নেয়ামুল হালিম জানান, অপরাধীরা সাদা পোশাকে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও চিনে ফেলে এবং সুযোগ বুঝে নিরীহ প্রবাসীদের ফাঁদে ফেলে। সাধারণত একা থাকা যাত্রীদের টার্গেট করে কম ভাড়ার গাড়ি বা অন্য কোনো প্রলোভন দেখিয়ে তারা সর্বস্ব লুটে নেয়। অনেক প্রবাসী দেশে ফিরে মামলার ঝামেলা এড়াতে থানায় অভিযোগ করতে চান না, যা অপরাধীদের পার পেয়ে যেতে সাহায্য করে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তরা বিভাগের ডিসি মো. ইলিয়াস কবির বলেন, অপরাধীরা বিমানবন্দর এলাকার সামান্য বাইরে গিয়ে অপরাধ ঘটায় এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ডিবি পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
সম্প্রতি মালয়েশিয়া থেকে পাঠানো স্বর্ণ লুটের একটি ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। গত ২৮শে আগস্ট রাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বলাকা ভবনের সামনে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মো. সুমনের মামলার পর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন শান্ত ও বিমানবন্দর ইউনিট বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফকে ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কারসহ গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রিপন হোসেন ও ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুবেলকেও আসামি করা হয়েছে। জড়িত থাকার অভিযোগে এই চার নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এজাহার অনুযায়ী, মালয়েশিয়া থেকে আসা ২০০ গ্রাম স্বর্ণ নিয়ে ভাড়া করা মাইক্রোবাসে করে বলাকা ভবনের বিপরীতে নামার পর ছিনতাইয়ের শিকার হন বাদী ও তার বন্ধু রোহান।
এছাড়া অভিনব প্রতারণার শিকার হয়েছেন সিলেটের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন। সৌদি আরব থেকে ফেরার পর তার লাগেজে লেখা পারিবারিক নম্বরের ছবি তুলে নেয় প্রতারকরা। পরে তার পরিবারকে ফোন করে কাগজপত্র জটিলতার কথা বলে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। একই ধরনের আরেকটি প্রতারণামূলক ঘটনায় শুক্রবার টাকা লেনদেনের আগেই এক প্রতারককে আটক করেছে র্যাব-১।