প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ২৫

হেবা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর বলে অভিহিত করেছে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দের দাবি, সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের নতুন বিধানের মাধ্যমে হেবা সম্পন্ন না করেও প্রায় সব কার্যকারিতা প্রয়োগের একটি পৃথক সম্পত্তি হস্তান্তরব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে, যা মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

সম্প্রতি যশোরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, আইনটি না পড়েই এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, হেবা আইনে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা কারও নেই এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনীতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, হেবা বা অন্য কোনো ধর্মীয় আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এ আইন কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না।

আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স জানায়, নতুন আইনের মাধ্যমে দাতা জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগদখল ধরে রাখতে পারবেন, যা হেবার শর্তের পরিপন্থী। সংগঠনটির মতে, মুসলিম আইনের দৃষ্টিতে দাতা কর্তৃক আজীবন ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করে সম্পত্তি হস্তান্তরকে বৈধ হেবা হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। ওলামা অ্যালায়েন্সের নেতৃবৃন্দ জোর দিয়ে বলেন, মুসলিম আইন অনুযায়ী হেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো কবজা বা দখল হস্তান্তর, যেখানে দাতা হেবা সম্পন্ন করার পর গ্রহীতাকে সম্পত্তির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ দেবেন।

সংগঠনটির আশঙ্কা, প্রস্তাবিত ব্যবস্থার ফলে দাতা সম্পত্তি দান করার পরও নিজের জীবদ্দশায় ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করবেন এবং দাতার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীরা ওই সম্পত্তির দাবি করতে পারবেন না। তারা প্রশ্ন তোলেন, এই আইন মেনে সম্পত্তি দান করলে মুসলিম পরিবারব্যবস্থা ও উত্তরাধিকার নীতিতে ওই সম্পদের অবস্থান কী হবে।

ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের দাবি, হেবা আইন সরাসরি বাতিল না করলেও সরকার এমন একটি বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েছে যা বাস্তবে হেবার শর্তকে পাশ কাটিয়ে মুসলিম উত্তরাধিকার ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলবে। এ বিষয়ে সরকারের কাছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করে সংগঠনটি বিজ্ঞ মুফতিদের পরামর্শ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের সতর্কবার্তা, দ্রুত সংশোধন না করা হলে নতুন এই আইন কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক আইন হিসেবে সাব্যস্ত হতে পারে।