বরুড়ায় ইসডো হসপিটালের ডা. কেয়ার বিরুদ্ধে বাসায় চিকিৎসাসেবা ও মারাত্মক অপচিকিৎসার অভিযোগ, প্রসূতির অবস্থা আশঙ্কাজনক

​বরুড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: মোঃ আবিদ হাসান

কুমিল্লার বরুড়া হসপিটাল রোডে অবস্থিত ইসডো হসপিটালের মহিলা চিকিৎসক ডা. কেয়ার বিরুদ্ধে আইন অমান্য করে নিজস্ব বাসভবনে চিকিৎসা পরিচালনা ও এক প্রসূতিকে ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে জীবন সংকটে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সিজারিয়ান অপারেশনের সময় রোগীর পেটে সুতা ও গজ রেখে সেলাই করার ফলে মারাত্মক ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ে প্রসূতির অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, এক প্রসূতিকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বরুড়াস্থ ডা. কেয়ার নিজস্ব বাসভবনে নেওয়া হয়। সেখানে আলট্রাসনোগ্রাফি শেষে সবকিছু স্বাভাবিক জানিয়ে নরমাল ডেলিভারির কথা বলেন ওই চিকিৎসক। কিন্তু দুই দিন নিজের বাসায় রেখে চিকিৎসার নামে কালক্ষেপণ করার পর হঠাৎ জরায়ুর মুখ না খোলার অজুহাতে দ্রুত সিজারের তাগিদ দেন তিনি।​পরবর্তীতে রোগীকে ইসডো হাসপাতালে নিয়ে তড়িঘড়ি করে সিজারিয়ান অপারেশন করানো হয়। কিন্তু বাড়ি নেওয়ার কয়েক দিন পরই রোগীর পেটে তীব্র ব্যথা দেখা দেয়। পুনরায় ডা. কেয়ার বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি প্রসূতির প্রচণ্ড ব্যথার তোয়াক্কা না করেই ক্ষতস্থানের সেলাই কেটে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। ​পরদিন রোগীর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরুড়ার মেডিনোভা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ডা. আয়েশা সিদ্দিকা আলট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষা করে প্রসূতির পেটের ভেতরে গজ ও সুতা রয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে জরুরি ভিত্তিতে অপর এক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রসূতির পেট থেকে ৪টি গজ ও সুতা উদ্ধার করা হয়। হাসপাতাল ছেড়ে নিজস্ব বাসভবনে চিকিৎসাসেবা দেওয়া এবং ডাক্তারের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ভুল চিকিৎসায় ক্ষোভে ফুসছে স্থানীয় বরুড়াবাসী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ইসডো হসপিটালের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ জনগণ।