দেশের সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) কর্মদক্ষতা ও পারফরম্যান্স যাচাইয়ে নতুন এক অভিন্ন নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে ১০০ নম্বরের মূল কর্মসম্পাদন সূচক (কেপিআই) দিয়ে তাদের মূল্যায়ন করা হবে। এই মূল্যায়নের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে এমডিদের নিয়োগ, পুনর্নিয়োগ, মেয়াদ বৃদ্ধি এবং বেতন-ভাতা ও অন্যান্য প্রণোদনা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত।

রোববার দেশের সব ব্যাংকের কাছে পাঠানো এক সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক এই নির্দেশনা দিয়েছে। নতুন এই নিয়মে কোনো সূচকে আগের চেয়ে পারফরম্যান্স খারাপ হলে নেতিবাচক নম্বর বা জরিমানার (পেনাল্টি) বিধানও রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি ছয় মাসের কাজের ওপর ভিত্তি করে এমডিদের দক্ষতা মূল্যায়ন করা হবে। বর্তমানে দায়িত্বরত এমডিদের প্রথম মূল্যায়নকাল হবে আগামী অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত। এরপর নতুন কোনো এমডি নিয়োগ পেলে তার ক্ষেত্রেও যোগদানের পরবর্তী ছয় মাসের কর্মদক্ষতা খতিয়ে দেখা হবে।

নতুন এই কাঠামোর আওতায় পরবর্তী ছয় মাসের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হবে আগের প্রান্তিকের সূচকগুলোকে ভিত্তি ধরে। ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ এই লক্ষ্যমাত্রা অনুমোদন করার পর, পরবর্তী সাত কার্যদিবসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে তা চূড়ান্ত করতে হবে।

১০০ নম্বরের এই মূল্যায়নে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মূলধন, তারল্য ও খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনায়। এর মধ্যে ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত, আপৎকালীন তারল্য এবং ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা যাচাইয়ে বরাদ্দ থাকছে ২৫ নম্বর। একইভাবে খেলাপি ঋণ কমানো, অবলোপন করা ঋণ পুনরুদ্ধার এবং শীর্ষ ২০ ঋণগ্রহীতার কাছে ঋণ কেন্দ্রীভূত হওয়ার মাত্রার ওপর থাকবে আরও ২৫ নম্বর। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন সংক্রান্ত নির্দেশনা পরিপালন, অর্থপাচার প্রতিরোধ নীতিমালা অনুসরণ, তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা এবং ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা মূল্যায়নের জন্য ২৫ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাকি ২৫ নম্বরের মধ্যে ১৫ নম্বর বরাদ্দ রাখা হয়েছে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে ব্যাংকের ভূমিকার ওপর। এই ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র, কুটির, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ (সিএমএসএমই), কৃষি, পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন, ডিজিটাল সেবার প্রসার, জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং গ্রাহকের অভিযোগ নিষ্পত্তির হার বিবেচনা করা হবে। আর অবশিষ্ট ১০ নম্বর দেওয়া হবে ব্যাংকের অর্জিত মুনাফা এবং পরিচালন ব্যয়ের দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে। এই নম্বর বিভাজনের আলোকে প্রতিটি ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে নিজ নিজ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করবে।