প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮: ৫৮

হরমুজ প্রণালিতে নতুন একটি নৌপথ চালুর বিষয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে নির্ধারিত একটি আঞ্চলিক বৈঠক শেষ মুহূর্তে স্থগিত করেছে ওমান। ওমানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সালালাহতে সোমবার এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে ‘গঠনমূলক আলোচনার উপযুক্ত পরিবেশ’ তৈরির লক্ষ্যে বৈঠকটি পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ওমান।

ওমানের এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এল, যার ঠিক এক দিন আগেই বাহরাইন ইরানের সঙ্গে যৌথ কোনো মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। রোববার রাতে ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৈঠক স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার এবং কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছানোর মতো অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ঐকমত্যের স্বার্থে সালালাহর বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। তবে তিনি নতুন কোনো তারিখ বা স্থগিতের বিস্তারিত কারণ উল্লেখ করেননি। তার পোস্টে বাহরাইন, ইরান, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতের পতাকা থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, এই আটটি দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

এর আগে গত শনিবার বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তেহরানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের আগে তারা ইরানের সঙ্গে কোনো যৌথ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবে না। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই গত শুক্রবার জানিয়েছিলেন যে ওমানের আয়োজনে ওই বৈঠকে তেহরান অংশ নেবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রোববার লন্ডনভিত্তিক আরবি সংবাদমাধ্যম আল-আরাবি আল-জাদিদকে জানান, এই বৈঠকের একমাত্র আলোচ্য বিষয় ছিল হরমুজ প্রণালির নতুন নৌপথ। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইরান ও ওমান এ বিষয়ে একটি চুক্তি এবং যৌথ বিবৃতি চূড়ান্ত করলেও এর অর্থ এই নয় যে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর পর তেহরানও এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। পরবর্তীতে জুন মাসে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ সই হলেও হরমুজ প্রণালি নিয়ে মতবিরোধের জেরে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এরপর আগস্ট মাসে আবারও মার্কিন হামলা ও ইরানের পাল্টা হামলার ঘটনার জেরে এই অঞ্চলের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। বাহরাইনও পূর্বে ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল, যার মধ্যে দেশটির মার্কিন বিমানঘাঁটি ঈসাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।