মাত্র ১০০ টাকা নিয়ে চুল কাটতে বাড়ি থেকে বের হওয়া ১২ বছর বয়সী শিশু মোহাম্মদ রায়হান সাত মাস পর ফিরে এসেছে এক পা হারিয়ে। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের সাতগড় নোয়াপাড়া এলাকার অটোরিকশাচালক নাজিম উদ্দীনের ছেলে রায়হানকে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঐতিহ্যবাহী চুনতি সীরাত মাহফিল এলাকায় ভিক্ষা করতে দেখা যায়। স্থানীয়রা তাকে চিনতে পেরে খবর দিলে বাবা নাজিম উদ্দীন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছেলেকে উদ্ধার করেন।
ফিরে আসা শিশুটির শরীরের ডান পাশে ও পিঠে অস্ত্রোপচারের দীর্ঘ দাগ রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ, তাকে পঙ্গু করে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার পাশাপাশি তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। তবে অঙ্গ বিক্রির বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয় এবং এ বিষয়ে সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত প্রয়োজন।
নিখোঁজের বর্ণনা দিতে গিয়ে রায়হান জানায়, সে চুল কাটার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে কক্সবাজার যায়। সেখানে কয়েকজনের সঙ্গে পরিচয়ের পর তাদের সঙ্গে ট্রেনের ছাদে চড়ে সে কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছায়। এরপর কয়েকজন লোক তাকে এমন একটি স্থানে নিয়ে যায়, যেখানে চারপাশে বাগান এবং মাঝখানে একটি ঘর ছিল। সে জানায়, সেই জায়গায় তার মতো আরও অনেক শিশু-কিশোর ছিল।
শিশুটির ভাষ্যমতে, এক রাতে ঘুমানোর পর সকালে উঠে সে দেখতে পায় তার একটি পা নেই। বিষয়টি জানতে চাইলে তাকে জানানো হয় যে ট্রেনে দুর্ঘটনায় তার পা কাটা পড়েছে। এরপর থেকে প্রতিদিন তাকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে ভিক্ষা করানো হতো এবং জমানো টাকা একটি প্লাস্টিকের ব্যাংকে রাখা হতো।
রায়হান আরও জানায়, ওই স্থানে দুই পুরুষ ও সালমা নামের এক নারী ছিল এবং সেখানে তার মতো আরও অনেকের হাত-পা কাটা ছিল। সর্বশেষ একপর্যায়ে তাকে বাসে তুলে দেওয়া হলে সে চুনতির মাহফিল এলাকায় চলে আসে।