জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে আবারও কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন সাবেক ক্রিকেটার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গেম ডেভেলপমেন্ট পরামর্শক খালেদ মাহমুদ সুজন। বাংলাদেশ দলের সঙ্গে অতীতে অস্থায়ী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সুজন জানিয়েছেন, সুযোগ পেলে আবারও এই গুরুদায়িত্ব নিতে প্রস্তুত আছেন তিনি। সম্প্রতি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের এই আগ্রহের কথা জানান তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ক্রিকেটে স্থানীয় কোচদের মূল্যায়ন বাড়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সুজন। একসময় বাংলাদেশ দল পুরোপুরি বিদেশি কোচদের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও বর্তমানে চিত্রটি বদলাতে শুরু করেছে। এই পরিবর্তনকে দেশের ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি। সুজন বলেন, ‘খুবই খুশি যে আজকাল বাংলাদেশ দলে আশরাফুল, তালহা, সালাউদ্দিন, সোহেল—অনেককে দেখতে পাচ্ছি। এটা আমার মনে হয় ভালো শুরু। আমাদের হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলে এখন সালাউদ্দিন দায়িত্ব নিচ্ছে, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জুনিয়র পর্যায়েও হান্নান আছে। সুতরাং এটা খুবই ভালো শুরু।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এটা এমন কোনো কঠিন বিষয় নয় যে শুধু অস্ট্রেলিয়ানরাই ক্রিকেট ভালো শেখাতে পারবে, বাঙালিরা পারবে না। এটা আমি সবসময় বিশ্বাস করি। আমি খুশি যেভাবে এগোচ্ছে। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে এখান থেকে অনেক বড় বড় কোচ তৈরি হবে, যারা একসময় হয়তো বিদেশেও কাজ করবে।’
বিসিবি যদি তাকে যোগ্য মনে করে প্রস্তাব দেয়, তবে জাতীয় দলের কোচ হওয়ার বিষয়টি ভেবে দেখবেন বলে জানান সুজন। তবে বর্তমানে বিসিবি সভাপতির দেওয়া গেম ডেভেলপমেন্ট পরামর্শকের দায়িত্বটি তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে চান। তাকে এই দায়িত্ব দেওয়ায় সভাপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সুজন বলেন, ‘বোর্ড যদি কোনো সময় মনে করে আমি সক্ষম, তাহলে অফার করলে অবশ্যই ভেবে দেখব। কিন্তু এখন প্রেসিডেন্ট আমাকে গেম ডেভেলপমেন্ট পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি হয়তো ভেবেছেন, আমি এখানে ক্রিকেট বোর্ডকে আরেকটু বেশি সহায়তা করতে পারব। সেজন্য তাকে ধন্যবাদ। আমি আমার যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করব, অভিজ্ঞতা শেয়ার করার।’
দলের বর্তমান প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের সহকারী হিসেবে কেমন কোচ প্রয়োজন, সে বিষয়েও নিজের মতামত দিয়েছেন সুজন। তিনি মনে করেন, বড় কোনো পদবিধারী সহকারী কোচ নিয়োগ না দিয়ে বিভাগভিত্তিক বিশেষজ্ঞ কোচদের যুক্ত করাই শ্রেয়। সুজন বলেন, ‘সিমন্স কী দেখছে, আমাদের ব্যাটিংটা বিশেষভাবে দেখছে। একজন স্পিন বোলিং কোচ লাগবে, একজন ফাস্ট বোলিং কোচ লাগবে, একজন ফিল্ডিং কোচ লাগবে। এদের যোগ করেই সহকারী কোচ বলা যায়। এত লোক না বাড়িয়ে এভাবেই কাজ চলতে পারে।’
এদিকে দীর্ঘদিন পর জাতীয় টি-টোয়েন্টি দলে ফেরা নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়েও ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন সুজন। তিনি শান্তর সামর্থ্যের ওপর আস্থা রেখে বলেন, ‘শান্ত এখন অভিজ্ঞ। আমি মনে করি নিশ্চিতভাবেই এই ফরম্যাটে তার ভালো খেলার সামর্থ্য আছে।’