ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডাকসুর সাম্প্রতিক বেশ কিছু কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর অনুচ্ছেদ ২৪(এ) অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ দায়িত্ব সিন্ডিকেটের ওপর ন্যস্ত। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ছাত্র সংসদ যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে উপাচার্যের নির্দেশনা মানতে বাধ্য। কিন্তু ডাকসু কর্তৃপক্ষ কলাভবন সংলগ্ন ডাকসু ভবনের পশ্চিম পাশে এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে যে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেছে, তা উপাচার্য বা সিন্ডিকেটের কোনো অনুমতি ছাড়াই করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইনের পরিপন্থী।

সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ও আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শনকে ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এমন ছবি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ছাড়া ডাকসু কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য অনুমোদনহীন ওয়েবসাইট চালু করা নিয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষক মূল্যায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক বিষয়, যা কোনো ছাত্র সংসদ বা ব্যক্তি নিজস্ব উদ্যোগে পরিচালনা করতে পারে না। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য বাইরে প্রকাশ করা হয়েছে, যা আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক অপরাধ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের সমান্তরাল বা দ্বৈত প্রশাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। ডাকসু একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হলেও তার সব কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে থেকেই পরিচালিত হতে হবে। উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ছবি লাগানোসহ ডাকসুর এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ ও বিধিমালার চতুর্দশ অধ্যায়ের ৪ নম্বর ধারার নোট অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ যেকোনো সিদ্ধান্ত উপাচার্যের নির্দেশনা সাপেক্ষে গ্রহণ করবে।