উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের কোনো গোপন ছেলে সন্তান রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা। তবে এমন কোনো ছেলে থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি কিমের উত্তরসূরি হওয়ার অবস্থানে নেই বলে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ৪২ বছর বয়সী কিম জং উনের কোনো ছেলে সন্তান আছে কি না, তা যাচাইয়ের চেষ্টা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ২০১১ সালে বাবা কিম জং ইলের মৃত্যুর পর উত্তর কোরিয়ার শাসনভার হাতে নেন কিম জং উন। এনআইএস তাদের আগের মূল্যায়ন পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে, কিমের ১৩ বছর বয়সী মেয়ে কিম জু এ-ই বাবার পর দেশটির নেতৃত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তবে কিম জু এ-র কোনো বড় ভাই আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে এখনো অনুসন্ধান চালাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। গোয়েন্দা সংস্থাটির মতে, বড় ভাইয়ের অস্তিত্ব থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি উত্তরাধিকারী হওয়ার দৌড়ে নেই। এছাড়া কিম জং উনের আরেকটি ছোট সন্তান রয়েছে বলে জানালেও তার লিঙ্গ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কিম জু এ-র রাজনৈতিক অবস্থান কতটা সুদৃঢ়, সে বিষয়ে এনআইএসের বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। তবে তার বিভিন্ন প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড এবং রাষ্ট্রীয় প্রটোকল বিশ্লেষণ করে ইতিপূর্বে তার রাজনৈতিক অবস্থান মূল্যায়ন করেছে সংস্থাটি। মূলত সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের জবাব দিতেই এনআইএস এই বিবৃতি দেয়। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, কিম জং উনের স্ত্রী রি সল জুর কোনো ছেলে সন্তান নেই বলে নিশ্চিত হয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
২০২২ সালের শেষভাগ থেকে কিম জু এ-কে বাবার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা গেছে। এর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ এবং বড় ধরনের সামরিক কুচকাওয়াজের মতো সংবেদনশীল আয়োজনও রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তাকে কিম জং উনের ‘সবচেয়ে প্রিয়’ বা ‘সম্মানিত’ সন্তান হিসেবে উল্লেখ করে থাকে। বাবার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে নিয়মিত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়।
এর আগে ২০২৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার এক আইনপ্রণেতা জানিয়েছিলেন, এনআইএস একটি সংসদীয় কমিটিকে কিম জু এ-র এক বড় ভাই থাকার কথা বলেছিল। তবে পরবর্তীতে গোয়েন্দা সংস্থাটি স্পষ্ট করে যে, কিমের ছেলে সন্তান থাকার বিষয়টি এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে।
উত্তর কোরিয়ার মতো গভীরভাবে পুরুষতান্ত্রিক এবং পুরুষ-প্রধান ক্ষমতার কাঠামোতে কিম জু এ-র কোনো বড় ভাই রয়েছে কি না, তা দেশটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের উত্তরাধিকার নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ১৯৪৮ সালে উত্তর কোরিয়া প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত কিম পরিবারের তিন পুরুষ সদস্যই দেশটির ক্ষমতায় বসেছেন। কিম জং উনের পূর্বে তার বাবা কিম জং ইল এবং দাদা কিম ইল সুং দেশটির নেতৃত্ব দিয়েছেন।