ইয়েমেনে চালানো বিমান হামলার প্রতিশোধ নিতে সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমান ঘাঁটিতে একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানের লক্ষ্যবস্তু ছিল যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার, রাডার, রানওয়ে এবং গোলাবারুদ গুদামসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো। হুতি মুখপাত্রের দাবি, এই হামলায় সৌদি আরবের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সৌদি সিভিল ডিফেন্স সোমবার খামিস মুশাইত ও আবহা শহরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় সতর্কবার্তা জারি করেছে। এর আগের রাতেও ইয়েমেন সীমান্ত সংলগ্ন ওই এলাকায় সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল। খামিস মুশাইতের এক স্থানীয় বাসিন্দা এএফপিকে জানান, তিনি বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ শুনতে পেয়েছেন এবং বিস্ফোরণের ফলে সেখানে দীর্ঘসময় ধরে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। তিনি বলেন, সত্যি বলতে, আমরা সারা রাত ঘুমাতে পারিনি।
হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি অভিযোগ করেছেন, গত পাঁচ দিনে সৌদি আরব ইয়েমেনজুড়ে ৩০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে, যা খামিস মুশাইত এবং তাইফ বিমান ঘাঁটি থেকে পরিচালিত হয়েছে। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের নতুন এই পর্যায় শুরু হয় গত জুলাই মাসে, যখন হুতিরা সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেয় এবং লোহিত সাগরে সৌদি নৌযানগুলোকে লক্ষ্য করে আক্রমণ শুরু করে। সেই সময় থেকেই সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে।
এর আগে রোববার হুতিরা দাবি করে যে, তারা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের শারুরা ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। গত মঙ্গলবার দক্ষিণাঞ্চলে চালানো অপর এক হামলায় বহু মানুষ আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে লোহিত সাগর উপকূলের বাব আল-মানদেব প্রণালিতে হুতিরা নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এই জলপথটিই এখন সৌদি তেল রপ্তানির একমাত্র প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।