বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারের স্বায়ত্তশাসনের স্বপ্ন দীর্ঘদিনের। যদিও বেসরকারি টেলিভিশনের বিকাশের যুগে এই আলোচনার প্রাসঙ্গিকতা অনেক কমে এসেছে, তবুও সম্প্রতি একজন অভিজ্ঞ মিডিয়া ব্যক্তিত্বকে বিটিভি’র মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় নতুন করে আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছিল। অনেকের ধারণা ছিল, সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত এই চ্যানেলটির আমূল পরিবর্তন আনতে আগ্রহী। তবে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক চিঠির পর সেই প্রত্যাশা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে।
মন্ত্রণালয়ের এক সহকারী সচিবের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বিটিভি’র মহাপরিচালককে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে বিটিভি’র সোশ্যাল মিডিয়া পেজে কোনো জনসচেতনতামূলক বার্তা বা কনটেন্ট প্রচার করতে হলেও মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। এই নির্দেশের ফলে বিটিভি’র মহাপরিচালকের পদটি কার্যত একটি ‘ডাক বাকসো’তে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, মহাপরিচালককে যেসব বিষয়ে বাধ্যতামূলকভাবে মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন নিতে হবে তার মধ্যে রয়েছে—সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন মাধ্যমে যেকোনো ধরনের কনটেন্ট প্রচার, জনবল ব্যবস্থাপনা, নতুন পদ সৃষ্টি, নিয়োগ, পদায়ন ও বদলি। এছাড়া নীতিগত পরিবর্তন, বিধি সংশোধন, বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা, অনুষ্ঠানসূচি, বাজেট প্রণয়ন এবং ক্রয় বা বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও ডিজি’র হাত থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতের আওতায় সম্প্রচার যন্ত্রপাতি যেমন স্টুডিও সরঞ্জাম, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম, ট্রান্সমিটার এবং ওভি ভ্যান ক্রয়ের ক্ষেত্রেও মন্ত্রণালয়ের অনুমতি প্রয়োজন হবে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, অতীতে কখনোই বিটিভি’র মহাপরিচালককে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক চিঠি দেওয়া হয়নি। নতুন এই নির্দেশনার মাধ্যমে কেবল মহাপরিচালকের বর্তমান ক্ষমতাই খর্ব করা হয়নি, বরং ২০২০ সালে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত আদেশে ডিজিকে যে ১৭টি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট এখতিয়ার দেওয়া হয়েছিল, তার বড় একটি অংশও বাতিল হয়ে গেছে।