ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে তিন রাজনৈতিক দলের ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইতিমধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির জন্য তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সরাসরি দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন হওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা না করলেও তাদের পছন্দের প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গত রোববার ঢাকা উত্তরের জন্য আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং দক্ষিণের জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম ঘোষণা করেছেন। আসিফ মাহমুদ এবারের নির্বাচনে নতুন মুখ হলেও, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তারা যথাক্রমে উত্তর সিটির ৩৭ নম্বর ও দক্ষিণ সিটির ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হয়েছেন।
বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্রমতে, ঢাকা উত্তর সিটিতে মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং দক্ষিণে মো. আবদুস সালামকে প্রার্থী হিসেবে প্রায় চূড়ান্ত করেছে দলটি। গত ২২ ফেব্রুয়ারি তাদের সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং দায়িত্ব নেওয়ার সময় থেকেই তাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা না করলেও দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, তৃণমূলকে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীও দুই সিটিতে তাদের পছন্দের প্রার্থী নিশ্চিত করেছে। ঢাকা উত্তরে মহানগর আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে ডাকসুর সাবেক ভিপি মো. আবু সাদিককে (সাদিক কায়েম) সমর্থন দেবে দলটি। বর্তমানে তিনি জামায়াতের সহযোগী সদস্য। এর আগে সেলিম উদ্দিন সিলেট–৬ (গোলাপগঞ্জ–বিয়ানীবাজার) আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। অন্যদিকে, ঢাকা–৮ আসনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা আব্বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পরাজিত হন। এছাড়া গত সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা–১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াতের আমির মো. শফিকুর রহমানের সঙ্গে কাজ করেছেন। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, দলীয়ভাবে প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মু. আতাউর রহমান সরকার জানান, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্বাচন প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, দলীয় সংগঠন এবং নতুন রাজনৈতিক পরিচিতির মধ্যে একটি বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় প্রার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা ভোটারদের কাছে বড় প্রভাব ফেলবে।