ব্যস্ত জীবনযাত্রার চাপে অনেক সময় স্থির হয়ে বসে খাওয়ার সুযোগ মেলে না। অফিস বা ক্লাসের তাড়াহুড়ায় হাতের কাছে যা পাওয়া যায়, দাঁড়িয়েই তা দ্রুত গিলে ফেলা অনেকের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তবে এভাবে খাওয়ার ফলে অজান্তেই শরীরের বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে, যা সম্পর্কে অনেকেই সচেতন নন। জার্নাল অব কনজিউমার রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, দাঁড়িয়ে খাওয়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে অবসাদগ্রস্ত করে তোলে এবং খাবারের প্রকৃত স্বাদ অনুভব করতে দেয় না।
গবেষকদের মতে, খাবারের স্বাদ গ্রহণের সঙ্গে শরীরের ভঙ্গি ও ভারসাম্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক দীপায়ন বিশ্বাস জানান, অনেক সময় শিশুরা খেতে না চাইলে মা-বাবা তাদের দাঁড়িয়ে খাওয়ান। যদি পদ্ধতি সঠিক হয় তবে শিশু হয়তো খেয়ে নেয়, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি তাদের বিরক্তি বাড়িয়ে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, দাঁড়িয়ে খেলে খাবারের স্বাদ কম পাওয়া যায়, কিন্তু আরাম করে বসে খেলে খাবারের স্বাদ বেশি অনুভূত হয়।
দাঁড়িয়ে খাওয়ার শারীরিক ক্ষতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা জানান, দাঁড়িয়ে থাকার ফলে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি শরীরকে নিচের দিকে টানে। এতে রক্তপ্রবাহ নিচের দিকে বেশি হয়, ফলে হৃৎপিণ্ডকে রক্ত সারা শরীরে ছড়িয়ে দিতে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। এতে হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় এবং হাইপো থ্যালামিক পিটুইটারি অ্যাড্রিনালিন বা স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়। শরীর যখন অবসন্ন থাকে, তখন কোনো খাবারই স্বাদু মনে হয় না, বরং সামান্য শারীরিক অস্বস্তিতেই খাবারের স্বাদ বিস্বাদ হয়ে যায়।
গবেষকরা বিষয়টি নিশ্চিত করতে ৩৫ জন ব্যক্তিকে নিয়ে একটি পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, যারা দাঁড়িয়ে চিপস খেয়েছেন, তারা এর স্বাদ সেভাবে পাননি। অন্যদিকে, যারা আরাম করে বসে খেয়েছেন, তাদের কাছে খাবারের স্বাদ অনেক বেশি ভালো লেগেছে। এমনকি হাতে ভারী ব্যাগ ধরিয়ে দিয়ে ফ্রুট স্ন্যাকস খাওয়ার পরীক্ষায় দেখা গেছে, যারা অস্বস্তিকর অবস্থায় দাঁড়িয়ে খেয়েছেন, তাদের কাছে খাবার সবচেয়ে বেশি বিস্বাদ মনে হয়েছে। তাই সুস্থ থাকতে এবং খাবারের স্বাদ উপভোগ করতে তাড়াহুড়ো না করে শান্ত হয়ে বসে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।