সাফারি স্যুটে মেয়েটিকে কিছুটা পুরুষালি দেখালেও, তার এই পোশাক পরার পেছনে রয়েছে এক গভীর আবেগ। সাধারণত সালোয়ার-কামিজে অভ্যস্ত এই কিশোরী হঠাৎই তার বাবার আলমারি খুলে বাবার সাফারি স্যুটটি পরেছে। তার মা জানান, মেয়েটি বাবার স্মৃতি আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার এক পাগলামি করছে। মাত্র সাত বছর বয়সে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবাকে হারানোর পর থেকে মেয়েটির মনে বাবার স্মৃতিগুলো অস্পষ্ট হয়ে আছে।

বাবার অভাব পূরণ করতে সে বাবার ব্যবহৃত সুগন্ধি, চিরুনি, শার্টের কলারের দাগ, এমনকি স্যান্ডো গেঞ্জি শুঁকেও বাবার অস্তিত্ব খোঁজার চেষ্টা করছে। মানিব্যাগের খুচরো টাকা, মায়ের কাছে লেখা চিঠি, ডায়েরির পাতা আর ফটো অ্যালবামের প্রতিটি টুকরো জোড়া দিয়ে সে তার বাবাকে ফিরে পেতে চায়। তার এই মরিয়া চেষ্টার মূল উদ্দেশ্য হলো, বাবার সাহচর্য ও সাহস অনুভব করা, যাতে সে বাইরের জগতের করুণা বা অসুন্দর দৃষ্টিকে উপেক্ষা করে একলা পথ চলতে পারে। সে প্রতিনিয়ত তার বাবার অস্তিত্বকে তন্নতন্ন করে খুঁজে ফিরছে।