দেশের কারাগারগুলোতে বন্দি মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত মোট ১৪৩৩ জনেরও বেশি বন্দির মৃত্যু হয়েছে। গড়ে প্রতি বছর ২৬০ জন বন্দি কারাগারে মারা যাচ্ছেন, আর গত ২০ মাসের হিসাব অনুযায়ী প্রতি মাসে গড়ে ৩৪ জনেরও বেশি বন্দির মৃত্যু হয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালে ২০৫ জন, ২০২২ সালে ১৩২ জন, ২০২৩ সালে ২২৭ জন, ২০২৪ সালে ১৭৯ জন এবং ২০২৫ সালে ৩৯০ জন বন্দি মারা যান। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত এই সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক বন্দি মৃত্যুর কারণ নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

কারাগারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, কারাগারে চিকিৎসক সংকট, চিকিৎসা সামগ্রীর অপ্রতুলতা, বিশেষায়িত হাসপাতালের অভাব এবং বিদ্যমান হাসপাতালে জনবল সংকটের কারণে গুরুতর অসুস্থ বন্দিদের কারাগারের বাইরে চিকিৎসার জন্য পাঠাতে হয়। অনেক সময় হাসপাতালে নেওয়ার পথেই বন্দিদের মৃত্যু হয়, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

কারা অধিদপ্তরের সূত্র আরও জানায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের ৭৪টি কারাগারে ধারণক্ষমতা ৪৬ হাজার হলেও বন্দি ছিল এক লাখ ৫১০২ জন। এই বিপুল সংখ্যক বন্দির বিপরীতে সব কারাগার মিলিয়ে স্থায়ী চিকিৎসকের সংখ্যা মাত্র দুজন। পর্যাপ্ত চিকিৎসক পদায়ন করা হলেও তারা স্থায়ীভাবে কাজ করতে আগ্রহী হন না এবং পরবর্তীতে অন্যত্র চলে যান।

মানবাধিকার কর্মীরা এই পরিস্থিতিকে কেবল উদ্বেগের নয়, বরং আতঙ্কের হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, আটক হওয়ার পর বন্দিরা রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকে, তাই অবহেলাজনিত কোনো মৃত্যুর দায় রাষ্ট্র এড়াতে পারে না। তারা জরুরি ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণগুলো শনাক্ত করে প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।