প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০: ৩০

একটি রাষ্ট্রের কার্যকারিতা বজায় রাখতে আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের পাশাপাশি চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীন গণমাধ্যম মূলত রাষ্ট্রের আয়না হিসেবে কাজ করে, যা শাসকগোষ্ঠীকে অন্যায় থেকে বিরত রাখার পাশাপাশি জনগণের প্রত্যাশা ও সরকারের নীতিমালার সেতুবন্ধ হিসেবে ভূমিকা পালন করে। আয়না যেমন চেহারার সৌন্দর্য ও খুঁত উভয়ই তুলে ধরে, গণমাধ্যমেরও উচিত রাষ্ট্রের ভুলগুলো ধরিয়ে দেওয়া।

তবে গত দেড় যুগে বাংলাদেশের অধিকাংশ গণমাধ্যম ফ্যাসিবাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করায় পাঠক ও দর্শকদের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা তলানিতে এসে ঠেকেছে। এর বিপরীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক সাংবাদিক বড় বড় পদে থেকে তথাকথিত ‘উন্নয়ন সাংবাদিকতা’র নামে শাসকগোষ্ঠীর তোষামোদ করেছেন। শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের একাংশ প্রশ্ন করার পরিবর্তে প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন, যা ছিল তাদের সুবিধা আদায়ের কৌশল। এসব তথাকথিত সাংবাদিকরা ফ্যাসিস্টদের দোসর হয়ে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।

তৎকালীন সময়ে ‘স্প্যান সাংবাদিকতা’র মতো অদ্ভুত চর্চাও দেখা গেছে, যেখানে প্রতিটি স্প্যান বসানোর খবরকে জাতীয় সংবাদ হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। শেখ হাসিনার পতনের ঠিক আগমুহূর্তেও কিছু সাংবাদিক গণভবনে গিয়ে ছাত্র আন্দোলন দমনের কৌশল বাতলে দিয়েছেন। এমনকি এক টিভি চ্যানেলের ক্যামেরাপারসনকে পুলিশের উদ্দেশ্যে ‘গুলি করেন, ফুটেজ নেব’—এমন মন্তব্য করতেও শোনা গেছে। কিছু গণমাধ্যম সরকারি চাপের মুখে নয়, বরং অতিউৎসাহী হয়েই চাটুকারিতায় লিপ্ত ছিল।

জুলাই বিপ্লবের পর অনেক গণমাধ্যম চরিত্র বদলাতে শুরু করলেও তাদের অতীত ভূমিকা ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। সরকারকেও এখন সতর্ক থাকতে হবে যে কারা ‘মুখ’ আর কারা ‘মুখোশ’। চাটুকার গণমাধ্যম সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কখনোই কল্যাণকর নয়; এদের মূল লক্ষ্য থাকে কেবল নিজেদের আখের গোছানো।