ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলায় নিহত স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) নিরস্ত্র এসআই মো. আলতাফ হোসেনের হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে নিহতের পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করতে এলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের তিনি এই নির্দেশ দেন। এ সময় শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে সর্বাত্মক আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নিহত পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের সার্বিক কল্যাণের জন্য ইতিমধ্যে পুলিশ অধিদপ্তরের কল্যাণ তহবিল থেকে ৬ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাদের পারিবারিক ব্যবসা সচল রাখার সুবিধার্থে ‘কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’ থেকে প্রয়োজনীয় ঋণসহ সার্বিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মজীবনে মরহুম আলতাফ হোসেনের সততা, নৈতিকতা ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে মরণোত্তর ‘পুলিশ পদক (পিপিএম)’ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী পশ্চিমপাড়ায় একটি অটোরিকশা রাখা নিয়ে বাগবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। সেটি মেটাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে পড়েন এসআই আলতাফ হোসেন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি তাঁর বড় ছেলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিলে রাত ৮টা ১০ মিনিটে দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি নিয়ে সেখানে বর্বর হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ সময় বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর ছোট ছেলে মো. আরিফুল ইসলামও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন।

পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মরহুমের স্ত্রী মোছাঃ শিউলী পারভীন বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মরহুম আলতাফ হোসেন ১৯৮৬ সালে সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে কনস্টেবল পদে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেছিলেন। দীর্ঘ ৪০ বছরের কর্মজীবনে তিনি ডিএমপি, রাঙামাটি, আরআরএফ রাজশাহী, আরএমপি ও বরিশাল জেলায় অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সাল থেকে আমৃত্যু তিনি ঢাকার স্পেশাল ব্রাঞ্চে (এসবি) কর্মরত ছিলেন।