অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার পান্নার দেশ-বিদেশের সম্পদের তথ্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম-এ প্রকাশিত এই তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের সই করা একটি চিঠি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে পাঠানো হয়েছে। সংস্থাটি আসিফ মাহমুদ, তার স্ত্রী এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও অর্থপাচার সংক্রান্ত বিস্তারিত নথি চেয়েছে।

দুদকের নথিপত্র অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, দেশে কোম্পানি গঠন, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ ও অর্থপাচারসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বিএফআইইউকে অনুরোধ করা হয়েছে, যেন তারা অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাব, সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাব, ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড, লকার, ঋণ, সঞ্চয়পত্র এবং এফডিআর ও ডিপিএসসহ সকল আর্থিক পণ্যের তথ্য সরবরাহ করে। এসব লেনদেনের রেকর্ড পর্যালোচনা করা হবে বলে দুদক জানিয়েছে।

তদন্তের আওতায় বিদেশে বিনিয়োগ ও অর্থপাচারের বিষয়গুলোকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দুদকের চিঠিতে পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে জমি কেনা, অর্থপাচার ও শেল কোম্পানি গঠনের অভিযোগের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে এসব দেশে কোনো বিনিয়োগ বা সম্পদ রয়েছে কি না, তা যাচাই করার উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

এর আগে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে থাকাকালীন নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিতে অনিয়মের অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরবর্তীতে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নিয়োগ, ডিসি পদায়ন, টেন্ডার প্রক্রিয়া ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের নতুন অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দুদক জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।