স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম (18 September 2026, 01:48 PM)-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থীদের জামানত পাঁচ গুণ এবং নির্বাচনি ব্যয়সীমা দ্বিগুণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নির্বাচনি অপরাধে শাস্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম হলে ভোট বন্ধের ক্ষমতা পাচ্ছে কমিশন। তবে প্রার্থীদের জন্য ন্যূনতম কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হচ্ছে না।

চূড়ান্ত হওয়া সংশোধিত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান পদের জন্য জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদের প্রার্থীদের জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। এছাড়া, নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ না পেলে প্রтивной জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। বর্তমান নিয়মে প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা ১২.৫ শতাংশ ভোট পেলেই জামানত ফেরত পাওয়া যায়।

জামানতের পাশাপাশি প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয়সীমাও দ্বিগুণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সর্বোচ্চ নির্বাচনি ব্যয় ৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। আর সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদের প্রার্থীদের ব্যয়সীমা ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ২ লাখ টাকা।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, এবার থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো নির্দলীয় ও প্রতীকবিহীন হওয়ায় প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত প্রার্থীর কারণে ব্যালট পেপার তৈরি, প্রতীক বরাদ্দ, পোলিং এজেন্ট ব্যবস্থাপনা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যয় ও চ্যালেঞ্জ অনেক বেড়ে যাবে। মূলত প্রার্থী সংখ্যা একটি যৌক্তিক সীমায় রাখতেই জামানত ও ব্যয়সীমা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ও বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, হঠাৎ জামানত এতটা বাড়ানোয় অনেক যোগ্য কিন্তু আর্থিকভাবে অসচ্ছল প্রার্থীর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ সংকুচিত হতে পারে। এতে নাগরিকদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

২০১৬ সালের স্থানীয় সরকার (ইউপি) নির্বাচন বিধিমালা সংশোধন করে এই নতুন নিয়ম চূড়ান্ত করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং শেষে এটি ইসিতে এসেছে এবং আগামী সপ্তাহে এসআরও (SRO) নম্বরের জন্য পুনরায় আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপরই চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে। এছাড়া উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের নির্বাচনি বিধিমালাও ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।