১৯৯৮ সালে পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী রণজিত ঘোষের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন পিরোজপুরের আবদুল খালেক শিকদার। সেই ঋণ শোধ করে যাওয়ার আগেই ২০১১ সালে তিনি মারা যান। বাবার মৃত্যুর ২৮ বছর পর সেই অসমাপ্ত দায় মেটাতে এখন পাওনাদারের খোঁজ করছেন খালেক শিকদারের জ্যেষ্ঠ সন্তান ৪৫ বছর বয়সী কাঞ্চন শিকদার।
কাঞ্চন শিকদার পিরোজপুর সদরে গরু পালন ও মাছের ব্যবসা করেন। তিনি জানান, মৃত্যুর আগে বাবা তাঁকে ঋণের কথা জানিয়েছিলেন। তবে তৎকালীন আর্থিক সংকটের কারণে পরিবার তখন ঋণ পরিশোধ করতে পারেনি। এখন পরিস্থিতি সচ্ছল হওয়ায় তিনি বাবার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে চান। কাঞ্চন বলেন, “একসময় আমরা অভাবগ্রস্ত ছিলাম। দেনা শোধ করতে পারি নাই। অহন আল্লায় সুযোগ দিছে। বাবার দায়ডা শোধ করবার চাই।”
খালেক শিকদার নব্বইয়ের দশকে পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটের ‘প্রদীপ ভান্ডার’ নামের আড়তের মালিক রণজিত ঘোষের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা দাদন নিয়েছিলেন। তিনি পিরোজপুর থেকে ফল এনে সেখানে বিক্রি করতেন। ২০০৫ সাল পর্যন্ত ব্যবসা করলেও ঋণের টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। অসুস্থ হয়ে গ্রামে ফিরে যাওয়ার পর ২০১১ সালে তিনি মারা যান। কাঞ্চন শিকদার জানান, আগে তিনি লঞ্চে করে মালামাল ঢাকায় আনতেন এবং শাঁখারীবাজারে রণজিত ঘোষের বাসায় যেতেন।
স্মৃতি হাতড়ে মাস তিনেক আগে কাঞ্চন ঢাকায় এসে রণজিত ঘোষের খোঁজ করলেও পাননি। তাঁর কাছে থাকা রসিদে ঠিকানা লেখা রয়েছে, ‘আহসান উল্লাহ রোড, আল ফেসানী মার্কেট, লোতনাল, ওয়াইজঘাট, ঢাকা-১১০০’। তবে বর্তমানে ওই এলাকায় প্রদীপ ভান্ডার নামের কোনো আড়ত নেই। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, রণজিত ঘোষ প্রায় ১০ বছর আগে ব্যবসা গুটিয়ে চলে গেছেন, কিন্তু তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারছেন না।