বৃটিশ পপ তারকা এড শিরান তার সাম্প্রতিক সঙ্গীত সফরকে ঘিরে সৃষ্ট তীব্র বিতর্কের মুখে নিজের ভুল স্বীকার করেছেন এবং ভক্তদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় এক একক কনসার্টের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি গাজার বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ভয়াবহ, অসম এবং অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি ৭ই অক্টোবরের হামাস নেতৃত্বাধীন হামলাকেও অত্যন্ত ভয়াবহ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
ফিলিস্তিনের সমর্থনে বক্তব্য দেওয়ায় মার্কিন র্যাপার ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে আবেগাপ্লুত এড শিরান বলেন, তিনি কখনো কোনো আন্দোলনকারী শিল্পী হতে চাননি, কিন্তু এই বিতর্ক তাকে বাক্স্বাধীনতা এবং বিশ্বের জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিজের সঙ্গীতজীবনে রাজনৈতিক ভাষ্যকার হওয়ার ইচ্ছা তার কখনোই ছিল না, কিন্তু গাজায় সাধারণ মানুষ ও শিশুদের মৃত্যু এবং পশ্চিম তীরে কাঠামোগত অবিচার আর এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া ভেন্যু কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শিল্পীদের বক্তব্যে নজরদারি বা পূর্বানুমোদনের ব্যবস্থারও তীব্র বিরোধিতা করেন এই তারকা।
কনসার্ট আয়োজক প্রতিষ্ঠান মেসিনা ট্যুরিং গ্রুপ জানিয়েছে, ভেন্যু কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার কারণেই ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দিতে হয়েছিল। বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামের মালিক রবার্ট ক্রাফট সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ম্যাকলমোর থাকলে তিনি কনসার্ট করতে দেবেন না। এই ঘটনার প্রতিবাদে আইরিশ গায়ক অ্যারন রো, ডেনিশ সঙ্গীতশিল্পী লুকাস গ্রাহাম এবং ব্যান্ড বেওগাসহ অনেক সহযোগী শিল্পী সফর বর্জন করেন। বিতর্কের জেরে সফরের টিকিট বিক্রি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায় এবং সর্বনিম্ন টিকেটের দাম নেমে আসে ৩২ ডলারে (প্রায় ৩ হাজার ৯৪০ টাকা)। এমনকি কিছু ভক্ত ৪৫০ ডলারের (প্রায় ৫৫ হাজার ৪০৪ টাকা) টিকিট ফেরত নেওয়ার দাবিও জানান। তবে স্টেডিয়ামের বাইরে ফিলিস্তিনের সমর্থনে বিক্ষোভ চললেও নির্ধারিত সময়ের তিন ঘণ্টা পর শিরানের কনসার্টটি শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়।