সৌদি আরব এবং ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যকার সংঘাত বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শনিবার রাতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই সতর্কবার্তা প্রদান করে। এই সতর্কতার আওতাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েল, লেবানন, জর্ডান, ইরাক, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমান।

মার্কিন নাগরিকদের ওই অঞ্চল ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করে পররাষ্ট্র দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হুতিরা সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে। এই সামরিক সংঘাত যেকোনো সময় মারাত্মক রূপ নিতে পারে। এছাড়া ইরান ও তাদের সমমনা গোষ্ঠীগুলো বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে মার্কিন স্থাপনা বা নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পাশাপাশি আকাশসীমা বন্ধ বা ফ্লাইট বাতিলের মতো আকস্মিক পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর ওপর হুতিদের আক্রমণ প্রতিহত করতে সৌদি আরব মিত্রদেশগুলোর সহায়তা চেয়েছে বলে জানা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে না জড়িয়ে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা করবে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে ইয়েমেনে হুতিদের অবস্থান বা ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর সাংবাদিক বারাক রাভিদ জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যাম্প ডেভিডে তাঁর ছুটি সংক্ষিপ্ত করে নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই হোয়াইট হাউসে ফিরছেন। সিএনএনের জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক অ্যালেক্স প্লিটসাস জানিয়েছেন, ইয়েমেনে হামলার কৌশল নিয়ে আলোচনার জন্যই ট্রাম্প ক্যাম্প ডেভিডে বৈঠক করেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম ইয়েমেনের লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালির মোখা বন্দর ও পেরিম দ্বীপ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এছাড়া ড্রোন হামলার কারণে সৌদি আরব তাদের ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইন দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। রিয়াদের দাবি, ইরাকে সক্রিয় ইরানপন্থী মিলিশিয়ারা এই হামলা চালিয়েছে। ২০১৪ সালে সানা দখলের পর ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি জোট হস্তক্ষেপ করে। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর চলমান পরিস্থিতিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সংঘাত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগে রিয়াদে বিমানবন্দরের কাছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হুতিরা, যা ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি আরব।

২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর চলমান পরিস্থিতিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।.রিয়াদে বিমানবন্দরের পাশে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হুতিরা, ধ্বংসের দাবি সৌদির