প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ৫২। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সরকারের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, জনগণ যেমন আন্দোলন করে ক্ষমতায় বসাতে পারে, তেমনই আবার টেনেহিঁচড়ে নামাতেও পারে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার প্রতারণা করে ক্ষমতায় এসেছে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছে না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, এর জন্য সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে।

রোববার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখা আয়োজিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ‘এ-প্লাস সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, আমরা এমন এক রাষ্ট্রে বসবাস করছি, যেখানে কুমিল্লার নিহত অপ্রতিমের মা-বাবা বুকফাটা আর্তনাদ করছেন। তিনি দাবি করেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে এবং সরকার তা নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি থামছে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রতিটি পণ্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ট্যাক্স দেওয়ার পরও কেন সরকার জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে?

সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, সরকার যেভাবে দেশ পরিচালনা করছে তা দেখে মনে হচ্ছে, আমরা রোহিঙ্গা কিংবা অন্য কোনো দেশ থেকে ঘুরতে এসেছি। গত সাত মাসে দেশে অন্তত ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ উদ্ধার হলেও এখনো দুই হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ রয়েছে। এছাড়া সরকারি হিসাবের বাইরেও অনেক শিশু প্রতিদিন নিখোঁজ হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

জুলাই বিপ্লবের চেতনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করছে না, সংবিধানের সংস্কার করছে না, জনগণের যুক্তিসঙ্গত দাবি মানছে না এবং গণভোটের আলোকে মৌলিক পরিবর্তন আনছে না। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার কেবল মুখে অক্ষরে অক্ষরে পালনের কথা বলছে, কিন্তু কালক্ষেপণ করে সব দপ্তরে নিজেদের লোক বসিয়ে রাখছে। বাংলাদেশের তরুণ সমাজ এসব বোঝে না—তা মনে করার কোনো কারণ নেই। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানেই স্পষ্ট হয়েছে জনগণ ক্ষিপ্ত হলে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে।

সংবর্ধিত কৃতী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি গোলাপের মতো সুবাস ছড়াবে, ততক্ষণ পিতা-মাতা ও এই সমাজ তোমার প্রশংসা করবে। তাই আত্মগঠন ও মেধার বিকাশ ঘটাতে ফলাফলের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত প্রায় ১,৫০০ শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ও বিশেষ উপহার প্রদান করা হয়। সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের চবি ছাত্রশিবিরের শহীদ আবিদ বিন ইসলামের বাবা। এতে মূল বক্তা হিসেবে আলোচনা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মো. বরকত আলী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির নজরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক শামিম হোসেন, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি সম্পাদক এইচ এম আবু মুসা, চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি এবং বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. ফজলুল হক। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুনের সভাপতিত্বে ও পরিচালনা সম্পাদক রাকিবুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।