প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ০০ (21 September 2026, 12:00)

কুমিল্লার দেবিদ্বারে নিজের মা ও ৮ মাস বয়সী ভাতিজিকে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এই নৃশংস হামলায় বাধা দিতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন ঘাতকের বড় ভাবি রাবেয়া বেগম। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ওই গ্রামের মৃত ফরিদ মিয়ার স্ত্রী পেয়ারা বেগম (৬২) এবং তার ৮ মাস বয়সী ভাতিজি। তবে নিহত শিশুর নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত ঘাতক ছেলে ঈমনকে ঘরের ভেতর আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে।

হামলায় মারাত্মক জখম হওয়া বড় ভাবি রাবেয়া বেগমকে প্রথমে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (কুমেক) স্থানান্তর করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা শামীম আহসান জানান, সকালে বাড়ি থেকে চিৎকার শুনে তারা ছুটে যান। ঘরের মেঝেতে পেয়ারা বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ এবং খাটের ওপর ৮ মাস বয়সী ভাতিজির লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। এরপরই এলাকাবাসী ঘাতক ঈমনকে ধরে একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ এসে তাকে আটক করে নিয়ে যায়। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কেউ কিছু জানাতে পারেননি।

দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং তিনি নিজেও সেখানে যাচ্ছেন। ছেলেটি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিল বলে তারা জানতে পেরেছেন। তাকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্তারিত তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

দেবিদ্বার ও ব্রাহ্মণপাড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহীন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং জোড়া খুনের এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।